ডক্টর ফ্র্যাঙ্ক পার্ক এবং অ্যান্ড্রু উইলবার MiNiRoLu জিন থেরাপির জন্য নবম বার্ষিক 'অরফান ড্রিম অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেছেন

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

-1

চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, বিশিষ্ট বায়োমেডিক্যাল গবেষক ডক্টর ফ্র্যাঙ্ক পার্ক এবং ডক্টর অ্যান্ড্রু উইলবার নবম বার্ষিক 'অরফান ড্রিম অ্যাওয়ার্ড' (Orphan Dream Award) অর্জন করেছেন। সিকল সেল অ্যানিমিয়া (SCA) এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল ও বংশগত রক্তজনিত রোগের চিকিৎসায় তাদের উদ্ভাবিত পরবর্তী প্রজন্মের জিন থেরাপি 'MiNiRoLu' (মিনি-রো-লু) এই সম্মাননা বয়ে এনেছে। তাদের এই অসামান্য অবদান চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবং বিশেষ করে বিরল রোগের চিকিৎসায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই লরেটদের কৃতিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম 'রেজারেকশন' (Resurrection) নামক চলচ্চিত্রের সমাপনী ক্রেডিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের নিরলস পরিশ্রমের প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই ঘটনাটি ২০২৬ সালে জিন থেরাপির দ্রুত অগ্রগতির চিত্রকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে, বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে বংশগত রক্তজনিত ব্যাধি নিরাময়ের জন্য নতুন নতুন পথ খোঁজা হচ্ছে।

ডক্টর ফ্র্যাঙ্ক পার্ক ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে ইউনিভার্সিটি অফ টেনেসি হেলথ সায়েন্স সেন্টারে (UTHSC) সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে, ডক্টর অ্যান্ড্রু উইলবার সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক এবং পরিচালক হিসেবে তার গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি MiNiRoLu থেরাপিটি বর্তমান প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর, নিরাপদ এবং অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সান রোকো থেরাপিউটিকস (SRT)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক জিরোন্ডি, যিনি ১৯৯৩ সাল থেকে এরান্ট জিন থেরাপিউটিকস হিসেবে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন, এই দুই বিজ্ঞানীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের এই উদ্ভাবন SRT-এর জিন থেরাপি প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত UTHSC-এর একটি প্রতিবেদনে ডক্টর পার্কের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয় যে, MiNiRoLu-এর মাধ্যমে চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা একই সাথে এর কার্যকারিতাও বৃদ্ধি করেছে। এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ কোটিরও বেশি মানুষ সিকল সেল অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের বাসিন্দা। ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এই রোগের চিকিৎসার জন্য দুটি জিন থেরাপি অনুমোদন করেছিল, যা এই ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের দ্রুত গতির একটি বড় প্রমাণ।

যদিও ২০২৩ সালে অনুমোদিত 'ক্যাসগেভি' (Casgevy) এবং 'লাইফজেনিয়া' (Lyfgenia)-র মতো থেরাপিগুলো বাজারে আসার পর উচ্চমূল্য এবং প্রয়োগগত নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে এই থেরাপিগুলোতে ব্যবহৃত কেমোথেরাপির ঝুঁকি, যেমন বুসালফানের কারণে বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা রোগীদের জন্য বড় একটি দুশ্চিন্তার কারণ। MiNiRoLu থেরাপিটি মূলত এই নেতিবাচক দিকগুলো দূর করে একটি উন্নত ও নিরাপদ সমাধান প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ডক্টর উইলবার সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনে গ্লোবিন জিন নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের এরিথ্রয়েড কোষের বিভাজন নিয়ে তার অত্যাধুনিক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এই থেরাপির মূল ভিত্তি।

নবম 'অরফান ড্রিম অ্যাওয়ার্ড' প্রদানের এই উদ্যোগটি দুর্লভ বা বিরল রোগের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার গুরুত্বকে পুনরায় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। UTHSC এবং সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের এই স্বীকৃতি একাডেমিক গবেষণা এবং বায়োটেকনোলজি শিল্পের মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধনের উদাহরণ। সাশ্রয়ী এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরির এই নিরন্তর প্রচেষ্টা বর্তমান সময়ের প্রিসিশন মেডিসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে।

15 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Weekly Voice

  • EINPresswire.com

  • UTHSC College of Pharmacy Faculty Directory

  • ResearchGate

  • PubMed

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।