আদালতের রায়ের পর নতুন শুল্ক আরোপ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানাল ইউরোপীয় কমিশন
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ইউরোপীয় কমিশন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সংঘাতের মূলে রয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়। আদালত ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এর আওতায় প্রেসিডেন্টের ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিল করে দেয়। এই আইনি পরিবর্তনের ফলে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে যা আটলান্টিকের উভয় পাড়ের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে উপেক্ষা করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের বিশেষ ধারা ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ নতুন শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে ব্রাসেলসের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনকে ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতির শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এ ধরনের একতরফা শুল্ক আরোপ বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ২০২৫ সালের আগস্টের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। ওই চুক্তির একটি মূল ভিত্তি ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে রপ্তানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। বর্তমান এই কূটনৈতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। যদিও এর আগে তাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক যোগাযোগ ছিল, কিন্তু বর্তমান শুল্ক নীতি সেই আস্থার সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে এবং আলোচনার পথকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড ল্যাঞ্জ বর্তমান অবস্থাকে "শুল্ক বিশৃঙ্খলা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছে। এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব হিসেবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ মঙ্গলবার নির্ধারিত ইইউ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অনুসমর্থন প্রক্রিয়া স্থগিত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ট্রান্স-আটলান্টিক অংশীদারিত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের মধ্যে ১.৭ ট্রিলিয়ন ইউরোর বিশাল পণ্য ও সেবা আদান-প্রদান হয়েছিল, যা এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব প্রমাণ করে। এই বিশাল অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন মার্কিন প্রশাসনের অনিশ্চিত ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উভয় পক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্বাভাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে একটি কূটনৈতিক সমাধান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কেবল সরকারি পর্যায়ে নয়, বরং উভয় মহাদেশের হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
2 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Yahoo! Finance
The Budget Lab at Yale
Insights
KSAT
Indo Premier Sekuritas
Brussels Morning Newspaper
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
