ভেনেজুয়েলায় সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৫ জন বন্দির মুক্তি; বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র সমালোচনা

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি পাস হওয়া সাধারণ ক্ষমা আইন কার্যকর করতে শুরু করেছে, যার ফলে এই আইনের প্রথম কয়েক দিনেই অন্তত ৬৫ জন বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপের মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে আটক ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা 'ফোরো পেনাল' (Foro Penal)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, রবিবারের মধ্যে এই আইন প্রয়োগের প্রাথমিক ফলাফলগুলো পরিলক্ষিত হয়েছে।

২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি 'অ্যাবসলিউট ডিটারমিনেশন অপারেশন' (Absolute Determination Operation)-এর মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর ৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি ২০১৯ সাল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায় যে, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ৭ জন, শনিবার ১৫ জন এবং রবিবার ৪৩ জন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই আইনের অধীনে মোট ১,৫৫৭ জন ব্যক্তি মুক্তির আবেদন করেছেন। 'ফোরো পেনাল' সংস্থাটি ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে যে, ৮ জানুয়ারি থেকে এই সময়ের মধ্যে মোট ৪৬৪ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও, আইনের প্রকৃত পরিধি এবং এর প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা বলছেন যে, এই আইনের ফলে শত শত আটক ব্যক্তি, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বাদ পড়ে যেতে পারেন। এছাড়া, ১৯৯৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হুগো চাভেজ এবং নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলের পুরো সময়কাল এই ক্ষমার আওতায় আসবে কি না, তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এই সম্ভাব্য বঞ্চনার প্রতিবাদে বর্তমানে ২০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।

আইনের সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের ভাই এবং ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন যে, যারা সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় পড়ছেন না, তাদের জন্য সরকার 'ক্ষমা ব্যবস্থা' বা বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এই আইনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত জটিল এবং নজিরবিহীন; ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়।

এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সাথে সংলাপের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন চাপে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা কাঠামো থেকে কিউবান নিরাপত্তা বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। কিছু বিরোধী উপদেষ্টা এই সাধারণ ক্ষমা আইনকে সময়ক্ষেপণের একটি 'ফাঁদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে বন্দিদের কার্যত সরকারের কাছে 'নতি স্বীকার' করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আইনের প্রয়োগের এই প্রাথমিক পর্যায়টি একদিকে যেমন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষমতার এই সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ন্যায়বিচার এবং আইনি প্রক্রিয়ার পূর্ণতা নিয়ে গভীর মতভেদও স্পষ্ট করে তুলছে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • DNOTICIAS.PT

  • DN

  • Observador

  • dnoticias.pt

  • RTP

  • Infobae

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।