জার্মানির ৩৩ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার মিকেলা বেন্টহাউস মহাকাশ বিজয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কোমরের নিচের অংশ অবশ থাকা সত্ত্বেও সাবঅরবিটাল মহাকাশে পৌঁছানোর গৌরব অর্জন করেন। এই যুগান্তকারী ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের ২০শে ডিসেম্বর, শনিবার, পশ্চিম টেক্সাসের লঞ্চ সাইট ওয়ানে। এই মিশনটি পরিচালনা করেছিল ব্লু অরিজিন নামের সংস্থা, যার নাম ছিল নিউ শেপার্ড এনএস-৩৭।
২০১৮ সালে মাউন্টেন বাইক চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর থেকে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী বেন্টহাউস পৃথিবীর বুক থেকে প্রায় ৬৫ মাইল (প্রায় ১০৫ কিলোমিটার) উপরে উঠে যান। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মহাকাশের সীমানা, কারমান রেখা অতিক্রম করেন। প্রায় ১০ থেকে ১১ মিনিট স্থায়ী এই যাত্রা মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগকে আরও প্রসারিত করার প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্লু অরিজিনের মতে, এনএস-৩৭ মিশনটি ছিল তাদের ষোড়শ মানববাহী ফ্লাইট এবং ২০২২ সালের নবম নিউ শেপার্ড উৎক্ষেপণ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে তারা উৎক্ষেপণের হার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
এই ফ্লাইটে বেন্টহাউস ছাড়াও আরও পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন স্পেসএক্স-এর প্রাক্তন শীর্ষ কর্মকর্তা হান্স কনিগসম্যান, বিনিয়োগকারী জোয়ি হাইড, উদ্যোক্তা নীল মিলচ, বিনিয়োগকারী অ্যাডোনিস পুরু্লিস এবং মহাকাশপ্রেমী জেসন স্ট্যানসেল। মূলত ১৮ই ডিসেম্বর উৎক্ষেপণটি নির্ধারিত থাকলেও, উৎক্ষেপণের মাত্র ৫৮ সেকেন্ড আগে সিস্টেমের ত্রুটি এবং উচ্চ বায়ুমণ্ডলে প্রবল বাতাসের কারণে তারিখ পিছিয়ে ২০শে ডিসেম্বর করা হয়।
মিকেলা বেন্টহাউসের এই ঐতিহাসিক যাত্রাকে সফল করতে ব্লু অরিজিন বেশ কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ছিল বিশেষ ধরনের স্থানান্তর বোর্ড এবং অবতরণের পর সহজে চলাচলের জন্য মাটিতে কার্পেট বিছানো। নিউ শেপার্ড ক্যাপসুলটি শুরু থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশায় তৈরি, যেমন লঞ্চ টাওয়ারে লিফট ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-তে বর্তমানে একজন গ্র্যাজুয়েট ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত বেন্টহাউস, যিনি মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল নিয়ে গবেষণা করছেন, এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের 'সবচেয়ে দারুণ মুহূর্ত' এবং একটি স্বপ্নপূরণ বলে অভিহিত করেছেন।
এই বিশেষ ফ্লাইটটি মহাকাশ শিল্পে অন্তর্ভুক্তির বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা বহন করে। বেন্টহাউসের পূর্বেও মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি ২০২২ সালে প্যারাবোলিক ফ্লাইটে ওজনহীনতা অনুভব করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে একটি অ্যানালগ নভোচারী মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য হলো এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে আরও বেশি প্রবেশাধিকারের পক্ষে সওয়াল করা, এবং এই বার্তা দেওয়া যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হতে পারে না।



