ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদের প্রথম বৈঠক: গাজা পুনর্গঠন ও জাতিসংঘ নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে তার নবগঠিত শান্তি পরিষদের প্রথম উদ্বোধনী সভার আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানটি 'ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস' প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়, যা ইতিপূর্বে ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস নামে পরিচিত ছিল। এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ পূর্ণ সদস্য বা পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় এক ডজন রাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত না হয়ে কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই প্রথম সভার প্রধান লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে অর্জিত যুদ্ধবিরতির পরবর্তী গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন এবং সেখানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ISF) মোতায়েন নিয়ে আলোচনা করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর এই অঞ্চলের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত নগণ্য। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এই শান্তি পরিষদকে গাজা পুনর্গঠন সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যা ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

যদিও ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি দাভোসে অনুমোদিত পরিষদের সনদে মূলত গাজার পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, ট্রাম্প এই পরিষদের জন্য আরও ব্যাপক ও উচ্চাভিলাষী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই শান্তি পরিষদ হবে বিশ্বের "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনা পর্ষদ" যা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নজিরবিহীন ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি নিয়ে কাজ করবে। তবে জাতিসংঘ যাতে "সঠিকভাবে কাজ করে" তা নিশ্চিত করতে এই পরিষদ তদারকি করবে—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে গভীর সংশয় ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো প্রধান শক্তিগুলো কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নতুন কাঠামোর সাথে জাতিসংঘের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা স্পষ্ট করেছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সভায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (ISF) প্রধান মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফারস জানিয়েছেন যে, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি মিশর ও জর্ডান গাজার নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে সম্মত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকলেও ফিলিস্তিনি কোনো প্রতিনিধি দলের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কের কারণে গত বছর মাঝারি আকারের মার্কিন কোম্পানিগুলোর খরচ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও প্রশাসন তাদের বাণিজ্য নীতিকে অত্যন্ত সফল বলে দাবি করছে, তবে অন্যান্য অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বলছে যে এই শুল্কের প্রভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে মার্কিন জিডিপি ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। এই অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানগুলো প্রশাসনের সাফল্যের দাবির বিপরীতে এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

যে ইনস্টিটিউট অফ পিসে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি মূলত ১৯৮৪ সালে মার্কিন কংগ্রেস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভবনটির নাম পরিবর্তন করে "ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস" রাখা হয়েছে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে। ওয়াশিংটনের এই বৈঠকটি সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করলেও, এটি জাতিসংঘের মতো ঐতিহ্যবাহী বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর সাথে মার্কিন প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়টিও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Star

  • Diario1

  • unn.ua

  • Reuters

  • The Independent

  • The Washington Post

  • The Guardian

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • The Guardian

  • Atlantic Council

  • The Washington Post

  • iHeartRadio

  • Council on Foreign Relations - CFR.org

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।