২০২৬ সালের মাঝামাঝি বাজারে আসছে স্কোডা এপিক: সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক এসইউভি বিপ্লব

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Pin

Skoda Epiq

চেক অটোমোবাইল ব্র্যান্ড স্কোডা তাদের ইলেকট্রিক গাড়ির লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ববাজারে আনতে চলেছে সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক ক্রসওভার 'স্কোডা এপিক' (Skoda Epiq)। এই কমপ্যাক্ট এসইউভিটি মূলত বর্তমানের কামিক (Kamiq) মডেলের একটি বৈদ্যুতিক বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাজারে আসার পর বিওয়াইডি অ্যাটো ২ (BYD Atto 2) এবং রেনল্ট ৪ ই-টেক (Renault 4 E-Tech)-এর মতো এশীয় ও ইউরোপীয় মডেলগুলোর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ইলেকট্রিক গাড়িকে পৌঁছে দেওয়াই স্কোডার মূল লক্ষ্য, আর তাই জার্মানিতে এর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৫,০০০ ইউরো, যা কামিক মডেলের কাছাকাছি।

স্কোডার নতুন 'মডার্ন সলিড' (Modern Solid) ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই গাড়িটি স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতার এক অনন্য সংমিশ্রণ। এই ডিজাইন শৈলীটি প্রথম ২০২২ সালের নভেম্বরে 'ভিশন ৭এস' (Vision 7S) কনসেপ্টে দেখা গিয়েছিল। মাত্র ৪.১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গাড়িটি স্কোডার সবচেয়ে ছোট এসইউভি হলেও এর ২.৬ মিটারের হুইলবেস বড় অক্টাভিয়া (Octavia) মডেলের সমতুল্য। গাড়ির সামনের অংশে রয়েছে 'টেক-ডেক ফেস' (Tech-Deck Face) নামক একটি চকচকে কালো প্যানেল, যার পেছনে রাডার এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা লুকানো থাকে। প্রথাগত লোগোর পরিবর্তে এখানে বড় অক্ষরে 'SKODA' লেখাটি শোভা পাচ্ছে। এর টি-আকৃতির এলইডি ডে-টাইম রানিং লাইট এবং নিচের দিকে থাকা ম্যাট্রিক্স এলইডি হেডলাইট গাড়িটিকে একটি আধুনিক রূপ দিয়েছে।

বাইরে থেকে কমপ্যাক্ট মনে হলেও ভেতরের জায়গার ক্ষেত্রে স্কোডা এপিক কোনো আপস করেনি। এর বুট স্পেস বা মালামাল রাখার জায়গা ৪৭৫ লিটার, যা পেট্রোল চালিত কামিক মডেলের চেয়ে ৭৫ লিটার বেশি। পেছনের সিটগুলো ভাঁজ করলে এই ধারণক্ষমতা ১,৩৪৪ লিটার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। গাড়ির অভ্যন্তরে 'মোবাইল ফার্স্ট' (Mobile First) দর্শন অনুসরণ করা হয়েছে, যা ব্যবহারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে। ড্যাশবোর্ডে একটি বড় ১৩-ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে থাকলেও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের (climate control) মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আলোকিত ফিজিক্যাল বাটন বা বোতাম রাখা হয়েছে, যা চালকের জন্য বেশ সুবিধাজনক।

প্রযুক্তিগতভাবে এপিক মডেলটি এমইবি প্লাস (MEB+) প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা মূলত ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ বা সামনের চাকা চালিত গাড়ির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ক্রেতারা ৩৮.৫ কিলোওয়াট ঘণ্টা (LFP) এবং ৫৫ কিলোওয়াট ঘণ্টা (NCM) - এই দুই ধরনের ব্যাটারি অপশন থেকে বেছে নিতে পারবেন। ডব্লিউএলটিপি (WLTP) সাইকেল অনুযায়ী এর সর্বোচ্চ রেঞ্জ হবে ৪২৫ কিলোমিটার। গাড়িটি ১২০, ১৩৫ এবং ২১১ হর্সপাওয়ারের তিনটি ভিন্ন শক্তিতে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে 'এপিক ৫৫' সংস্করণটি মাত্র ৭.৪ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি গতি তুলতে সক্ষম। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে এটি ১২৫ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে, যার মাধ্যমে মাত্র ২৩ মিনিটে ১০% থেকে ৮০% চার্জ করা সম্ভব। এছাড়া এতে ১১ কিলোওয়াট এসি চার্জার এবং চারটি চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে।

স্পেনের নাভারাতে অবস্থিত ভক্সওয়াগেন গ্রুপের কারখানায় স্কোডা এপিকের উৎপাদন শুরু হবে। একই কারখানায় 'ইলেকট্রিক আরবান ফ্যামিলি' (EUCF)-এর অন্যান্য মডেলগুলোও তৈরি করা হবে। ২০২৬ সালের বসন্তকালে যুক্তরাজ্যে এর সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী উদ্বোধনের কিছুটা আগেই ঘটবে। ২০২৬ সালের মধ্যে স্কোডা যে ছয়টি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে, এপিক এবং এলরক (Elroq) তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে স্কোডার অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • auto.dziennik.pl

  • CcarPrice

  • SpeedMe.ru

  • CarGurus.co.uk

  • Skoda Auto

  • AutoHit UK

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।