Curiosity রোভারের রাতের বেলায় LED-গুলোর মাধ্যমে মঙ্গলকে আলোকিত করেছে যাতে পাথুরে ভূখণ্ডে নতুনভাবে খনন করা ছিদ্রটি অধ্যয়ন করা যায়। সূত্র: NASA/JPL-Caltech/MSSS.
এলইডি আলোর সাহায্যে 'নেভাদো সাহামা' গর্তের বিরল নৈশকালীন ছবি তুলল কিউরিওসিটি রোভার
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
নাসার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের একটি অত্যন্ত বিস্তারিত নৈশকালীন ছবি ধারণ করেছে। এই ছবি তোলার জন্য রোভারটি তার মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার (MAHLI) ক্যামেরায় থাকা বিশেষ এলইডি (LED) আলোক ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এই ছবি মূলত ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তোলা হয়েছিল, যা ছিল গেল ক্রেটারে রোভারটির অভিযানের ৪৭৪০তম মঙ্গল দিবস বা সল। 'নেভাদো সাহামা' নামক একটি খননকৃত গর্তের ওপর এমএএইচএলআই-এর এলইডি আলো ফেলে এই দৃশ্যটি ফুটিয়ে তোলা হয়, আর মূল ছবিটি ধারণ করা হয় রোভারের মাস্তুলে থাকা মাস্ট ক্যামেরা (Mastcam) দিয়ে।
মিশন বিজ্ঞানীরা এর আগেও দিনের বেলায় গভীর ছায়াযুক্ত এলাকা, যেমন ড্রিল করা গর্তের ভেতরের অংশ দেখার জন্য এমএএইচএলআই-এর এলইডি ব্যবহার করেছেন। তবে সম্প্রতি এই নৈশকালীন কৌশলটি পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে একটি বিশেষ কারণে। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর (সল ৪৭১৮) 'নেভাদো সাহামা' লক্ষ্যবস্তুতে ড্রিল করার পর বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন যে, গর্তের দেয়ালগুলো যথেষ্ট মসৃণ হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এর আগে ড্রিলিং পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে গর্তের দেয়ালগুলো অমসৃণ হয়ে যেত, ফলে এই ধরনের নৈশকালীন আলোকচিত্র গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। এই পদ্ধতির পুনরায় ব্যবহার ভূতাত্ত্বিক স্তরগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে এবং মঙ্গলের মাটির গঠন সম্পর্কে সূক্ষ্ম তথ্য পেতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করছে।
এই ড্রিলিং অভিযানটি এমন একটি এলাকায় পরিচালিত হয়েছে যা 'বক্সওয়ার্ক' (boxwork) নামক বিশেষ গঠনের জন্য পরিচিত। এই গঠনগুলো মূলত শক্ত শিরার মতো একটি জালিকা, যা ক্ষয়ে যাওয়া গর্তের মাধ্যমে একে অপরের থেকে আলাদা থাকে। কক্ষপথ থেকে দেখলে এগুলোকে বিশালাকার মাকড়সার জালের মতো মনে হয়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে এই কাঠামোগুলোর প্রতি আগ্রহী, কারণ এগুলো প্রাচীন শিলাস্তরে খনিজসমৃদ্ধ তরল প্রবাহের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের পরিবেশ জৈব অণু সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল বলে বিবেচিত হয়, যা মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
কিউরিওসিটি মিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (JPL), যা ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (Caltech) দ্বারা পরিচালিত হয়। ম্যালিন স্পেস সায়েন্স সিস্টেমস (MSSS) নামক প্রতিষ্ঠানটি মাস্টক্যাম এবং এমএএইচএলআই যন্ত্র দুটি তৈরি ও পরিচালনা করছে। এমএএইচএলআই ক্যামেরাটি সাদা আলো এবং দীর্ঘ তরঙ্গের অতিবেগুনি (UV) এলইডি দিয়ে সজ্জিত, যা অন্ধকারে কাজ করতে বা ফ্লুরোসেন্স ইমেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ৪৭৪০তম সলে এই ছবি তোলার সময় গ্রুপ ১ এবং গ্রুপ ২-এর সাদা এলইডিগুলো সক্রিয় ছিল, তবে অতিবেগুনি এলইডিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। 'নেভাদো সাহামা' গর্তটি এমন একটি গবেষণার অংশ হিসেবে খনন করা হয়েছে যেখানে 'স্যাম' (SAM) যন্ত্রের মাধ্যমে জৈব যৌগের বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রকল্পের উপ-প্রধান বিজ্ঞানী অ্যাবিগেইল ফ্রেমান উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ববর্তী নমুনাগুলোর দেয়াল অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে দলগতভাবে তারা বেশ কিছুকাল গর্তের নৈশকালীন আলোকসজ্জার কাজ থেকে বিরত ছিলেন। এছাড়া, 'নেভাদো সাহামা' এলাকায় কাজের অংশ হিসেবে (সল ৪৭৩১ থেকে ৪৭৪২ পর্যন্ত) এম৩৪ (M34) ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা এবং ১০০ মিমি মাস্টক্যাম টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করে একটি অত্যন্ত বিস্তারিত ৩৬০-ডিগ্রি স্টেরিও মোজাইক তৈরি করা হয়েছে। ২০১২ সালের আগস্ট থেকে কিউরিওসিটি রোভার গেল ক্রেটারের মাউন্ট শার্পের (Aeolis Mons) ঢালে অবস্থান করছে। এই এলাকায় 'বক্সওয়ার্ক' গঠনের অনুসন্ধান মূলত গ্রহটির জলজ অতীতের প্রমাণ খোঁজার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
পরিশেষে, 'নেভাদো সাহামা' গর্তের এই নৈশকালীন আলোকচিত্রটি ওই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক স্তরবিন্যাস এবং গঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে এই ধরনের প্রযুক্তিগত সাফল্য বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে মাটির গভীর স্তরের ছবি তোলা কেবল রোভারের সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং এটি গ্রহটির বিবর্তন প্রক্রিয়ার রহস্য উন্মোচনেও সহায়ক। কিউরিওসিটি রোভারের এই নিরলস যাত্রা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির নিখুঁত ব্যবহার ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পদার্পণের পথকে আরও সুগম করে তুলছে।
উৎসসমূহ
Пятый канал - Главные новости России и мира сегодня
NASA Science
Febspot
The Daily Galaxy
NASA
YouTube
