সূর্য থেকে 5.9 M-flare সহ শেষ 6 ঘন্টায় তিনটি আরো কম শক্তিশালী সৌর ফ্লেয়ারের সাথে, এবং এই সক্রিয় অঞ্চলটি এখনও ঠিক প্রসারিত এবং উষ্ণ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে
বিশ্বব্যাপী মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলি ২০২৫ সালের ২৯শে নভেম্বর তারিখে সৌর কার্যকলাপের একটি উল্লেখযোগ্য পুনরুত্থান নিশ্চিত করেছে, যা পূর্বে তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। এই বর্ধিত কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সক্রিয় অঞ্চল এআর৪২১৪, যা সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি এম-শ্রেণীর শিখা উৎপন্ন করেছে। এর মধ্যে ২৮শে নভেম্বর তারিখে ঘটা একটি এম৫.৯ শক্তির শিখা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার রেডিও ব্ল্যাকআউট সৃষ্টি করে। এই ধরনের সৌর বিস্ফোরণ থেকে নির্গত চার্জযুক্ত কণা আলোর গতিতে ভ্রমণ করে এবং ক্রুজিং উচ্চতায় বিমানের ইলেকট্রনিক্সকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
দুইটি PDS — “POTENTIALLY DANGEROUS SUNSPOTS” — এখন পৃথিবীর দিকে সরাসরি ঘুরছে
এই উচ্চ সৌর কার্যকলাপের তাৎক্ষণিক প্রভাব বিমান পরিবহণ খাতে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) ২৮শে নভেম্বর একটি জরুরি এয়ারওয়ার্থিনেস ডিরেক্টিভ (ইএডি) জারি করে, যা প্রায় ৬,০০০ এয়ারবাস এ৩২০ পরিবারের বিমানগুলির জন্য সফটওয়্যার আপডেটের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশিকাটি সৌর বিকিরণের হস্তক্ষেপের প্রতি দুর্বলতার কারণে জারি করা হয়েছে, যা বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমের ডেটা দুর্নীতি করতে পারে। ইএএসএ-এর এই জরুরি নির্দেশিকাটি ২৯শে নভেম্বর তারিখে কার্যকর হয় এবং এতে এ৩১৯, এ৩২০, এবং এ৩২১-এর সিইও এবং নিও উভয় প্রকারের বিমান অন্তর্ভুক্ত।
এই জরুরি পদক্ষেপের মূল কারণ হলো একটি নির্দিষ্ট ইন-ফ্লাইট ঘটনা, যা ৩০শে অক্টোবর তারিখে কানকুন থেকে নিউয়ার্কগামী একটি জেটব্লু এ৩২০ বিমানের সাথে ঘটেছিল। বিমানটি ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় অপ্রত্যাশিতভাবে নিচের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, যার ফলে কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী আহত হন এবং বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। এয়ারবাসের প্রাথমিক প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে দেখা গেছে যে এই ধরনের ঘটনায় এলিভেটর আইলেরন কম্পিউটার (ইএলএসি)-এর ডেটা দুর্নীতি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, যা তীব্র সৌর বিকিরণের ফলে ঘটে। ইএএসএ-এর নির্দেশনায় বিশেষভাবে ইএলএসি বি এল১০৪ ইউনিটগুলির প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারণ সংশোধন না করা হলে অনিয়ন্ত্রিত এলিভেটর নড়াচড়া বিমানের কাঠামোগত সীমা অতিক্রম করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলি এই জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করেছে, যার ফলে অপারেশনাল বিঘ্ন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এয়ারবাস জানিয়েছে যে প্রভাবিত বিমানের একটি 'উল্লেখযোগ্য সংখ্যা' রয়েছে, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরানো সফটওয়্যার সংস্করণে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব, যা প্রায় ৮৫% প্রভাবিত জেটের জন্য প্রযোজ্য। তবে, প্রায় ১,০০০ পুরোনো বিমানগুলির জন্য হার্ডওয়্যার পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, যা মেরামতের প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘায়িত করবে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতো সংস্থাগুলি, যারা প্রায় ৩৪০টি এ৩২০ পরিবারভুক্ত বিমান পরিচালনা করে, তারা অপারেশনে পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে।
এই ঘটনাটি মহাকাশ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। বিজ্ঞানীরা ইউনিভার্সিটি অফ সারে-এর গবেষকদের মতো নতুন বেলুন-মাউন্টেড প্রোব ব্যবহার করে সৌর ঝড়ের সময় বিকিরণের মাত্রা পরিমাপ করছেন। এই পরিমাপগুলি মহাকাশ আবহাওয়ার মডেলগুলিকে উন্নত করতে সাহায্য করবে, যা ভবিষ্যতে বিমান চলাচলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুতর ঘটনাগুলির পূর্বাভাস দিতে সহায়ক হবে।