সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রশাসন কর্তৃক IEEPA শুল্ক বাতিল ও ধারা ১২২-এর অধীনে সারচার্জ আরোপ
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA)-এর অধীনে আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ৬-৩ সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রশাসন দ্রুত বিকল্প আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে আদালত রায় দেয় যে IEEPA প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না, যা নির্বাহী বিভাগের বাণিজ্য কর্তৃত্বের ওপর একটি উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এই রায়ের ফলে পূর্বে আরোপিত IEEPA শুল্কগুলি বাতিল হয়ে যায় এবং আমদানি শুল্ক বাবদ আদায় করা আনুমানিক ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের বিষয়টি সামনে আসে, যা আমদানিকারকদের জন্য একটি জটিল আর্থিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্বীকার করেছেন যে এই অর্থ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
আইনি শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে, প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা (Section 122 of the Trade Act of 1974) ব্যবহার করে একটি অস্থায়ী বৈশ্বিক আমদানি সারচার্জ আরোপ করে। প্রাথমিকভাবে ১০% হার ঘোষণা করা হলেও, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫% করা হয়, যা ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়। ধারা ১২২ প্রেসিডেন্টের হাতে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য এই ধরনের বৈশ্বিক সারচার্জ আরোপের ক্ষমতা দেয়, যা কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ ছাড়া ২৪শে জুলাই, ২০২৬ তারিখে মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। প্রশাসন এই পদক্ষেপকে একটি 'সময়-সীমাবদ্ধ আইনি সেতু' হিসেবে দেখছে, যখন তারা ধারা ৩০১ তদন্তের মতো দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা মূল্যায়ন করছে।
ধারা ১২২-এর আইনি ভিত্তি এবং এর প্রয়োগ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই ধারাটি মূলত স্থির বিনিময় হার ব্যবস্থার অধীনে ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলার জন্য তৈরি হয়েছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক আগেই পরিত্যাগ করেছে, ফলে এর বর্তমান প্রয়োগ আইনিভাবে দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসন ধারা ১২২-এর অধীনে আরোপিত এই শুল্কগুলিকে পূর্বের IEEPA শুল্কের মতোই বৈশ্বিক এবং অ-বৈষম্যমূলক রেখেছে, তবে দেশ-নির্দিষ্ট ছাড়গুলি বাতিল করা হয়েছে।
এই দ্রুত নীতি পরিবর্তন বিশ্ব বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নীতিগত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, যা বাজার ডেটাতেও প্রতিফলিত হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, ৩রা মার্চ, ২০২৬ তারিখে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের (AAPL) শেয়ারের লেনদেন ২৬৪ ডলারের আশেপাশে ছিল। এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে মার্কিন বাণিজ্য আইনের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, কারণ আদালত কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত করেছে। আমদানিকারকদের জন্য, বিশেষ করে যারা IEEPA শুল্কের অধীনে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক প্রদান করেছেন, তাদের জন্য ফেরতের প্রক্রিয়াটি ইউনাইটেড স্টেটস কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (CIT)-এর উপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে, প্রশাসন ধারা ২৩২ এবং ধারা ৩০১-এর মতো অন্যান্য বিধিবদ্ধ ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্কের মাত্রা বজায় রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছে, যা ২০২৬ সালের জন্য মোট রাজস্ব প্রায় অপরিবর্তিত রাখবে বলে ট্রেজারি অনুমান করছে। এই পরিস্থিতিতে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠনের পরিবর্তে অস্থায়ী কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যতক্ষণ না কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হচ্ছে।
1 দৃশ্য
উৎসসমূহ
CoinCu News
Global Trade Alert
Baker Donelson
Wiley Rein LLP
Intellectia.AI
Snell & Wilmer
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



