ইফো ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে জার্মানির বৃহৎ সংখ্যক কোম্পানি ২০২৫ সালে আরোপিত কর ও লেভির বোঝা অত্যধিক বলে মনে করছে। মিউনিখ-ভিত্তিক এই গুরুত্বপূর্ণ জরিপটি স্টীফটাং ফ্যামিলিয়েনআনটারনেমেন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পন্ন হয়, যেখানে ১,৭০৫টি জার্মান কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। এই সমীক্ষাটি জার্মান অর্থনৈতিক নীতির উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দেশটির অবস্থানকে তুলে ধরে।
জরিপের মূল উদ্বেগগুলির মধ্যে রয়েছে শ্রম ব্যয়, শক্তি কর, আয়কর এবং বাণিজ্য কর। বিশেষত, কর্মীদের জন্য আরোপিত কর ও লেভিকে প্রায় ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা একটি শক্তিশালী বা অত্যন্ত শক্তিশালী বোঝা হিসাবে চিহ্নিত করেছে। স্টীফটাং ফ্যামিলিয়েনআনটারনেমেন-এর বোর্ড সদস্য রাইনার কির্চডর্ফার মন্তব্য করেছেন যে শ্রমের উপর উচ্চ আর্থিক চাপ নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীদের কর্মক্ষমতা থেকে আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে। দ্বিতীয় স্থানে, প্রায় ৭২ শতাংশ কোম্পানি বাণিজ্য কর বা গেভারবেস্টয়ারার-কে একটি প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তৃতীয় স্থানে, ৬৮ শতাংশ কোম্পানি শক্তি কর ও লেভি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা সরাসরি শিল্প উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলে।
ইফো গবেষকরা বর্তমান তথ্য উদ্ধৃত করে বলেছেন যে জার্মানির কর্পোরেট করের হার এবং শ্রমের উপর আরোপিত কর ও লেভি উভয় ক্ষেত্রেই এটি জি৭ (G7) শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। কর্পোরেট আয়কর বর্তমানে ১৫ শতাংশ, যার সাথে সলিডারিটি সারচার্জ যোগ হলে তা প্রায় ১৫.৮২৫ শতাংশে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বাণিজ্য করের হার পৌরসভা ভেদে ভিন্ন হয় এবং সামগ্রিক বোঝা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই উচ্চ করের কাঠামো আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক খাতে জার্মানির অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে এবং নিয়োগের আকর্ষণ হ্রাস করছে।
এই অর্থনৈতিক উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়, স্টীফটাং ফ্যামিলিয়েনআনটারনেমেন আগস্ট ২০২৫-এ প্রকাশিত একটি সম্পর্কিত গবেষণায় কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলকতা শক্তিশালী করার জন্য উপার্জিত আয়ের উপর কর হ্রাস করার দাবি জানিয়েছিল, যেখানে ৯০ শতাংশ কোম্পানি এই পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছিল। ইফো অর্থনীতিবিদরা এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিগত সুপারিশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মধ্যম আয়ের বন্ধনীতে আয়করের হ্রাস, সকল কোম্পানির জন্য বিদ্যুতের কর কমানো এবং মূলধন কোম্পানিগুলোর উপর আরোপিত কর্পোরেট আয়কর হ্রাস করা।
এই প্রেক্ষাপটে, জার্মান ফেডারেল সরকার তাদের প্রবৃদ্ধি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের বাজেট খসড়ায় কিছু কর কাঠামোগত উন্নতির জন্য আলোচনা করছে, যার মধ্যে ত্বরান্বিত অবচয়-এর মতো ব্যবস্থা রয়েছে। জুলাই ২০২৫-এ জার্মান বুন্ডেস্ট্যাগ কর বিনিয়োগ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য হলো ব্যবসায়ের জন্য দেশের আকর্ষণ বৃদ্ধি করা; এর মধ্যে ২০২৮ সাল থেকে কর্পোরেট আয়করকে ধাপে ধাপে হ্রাস করে ২০৩২ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭-এর মধ্যে করা বিনিয়োগের জন্য চলমান অবচয় হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপগুলি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারলেও, জরিপে উঠে আসা শ্রম ও শক্তির উপর উচ্চ লেভি নিয়ে উদ্বেগগুলি এখনও বিদ্যমান, যা জার্মান নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রেখে রাজস্ব সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।




