ভিটামিন ডি ঘাটতি: ক্লান্তি, মস্তিষ্কের আয়তন হ্রাস এবং জ্ঞানীয় স্বাস্থ্যের সংযোগ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

ভিটামিন ডি, যা প্রকৃতিতে একটি প্রো-হরমোন হিসেবে কাজ করে, মানবদেহের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তন্ত্রকে প্রভাবিত করে, যার মধ্যে রয়েছে অস্থি বিপাক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে গুরুতর ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির তীব্রতার মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান, বিশেষত বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাবটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এই অপরিহার্য পুষ্টির অভাব শরীরের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যার ফলস্বরূপ পেশী দুর্বলতা এবং অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে, চিকিৎসকেরা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ১,০০০ থেকে ২,০০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট (IU) ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ সর্বোত্তম মাত্রা বজায় রাখতে দৈনিক ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ IU পর্যন্ত গ্রহণের সুপারিশ করেন। গবেষণার নতুন তথ্যগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ভিটামিন ডি কেবল হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং চুলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; কম মাত্রার সাথে মেজাজের পরিবর্তন বা বিষণ্ণতার সংযোগ পাওয়া গেছে। এই ভিটামিনটি নিউরোস্টেরয়েড হরমোন হিসেবে নিউরোট্রান্সমিটার এবং নিউরোট্রফিন নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও নিউরোপ্রোটেকটিভ বৈশিষ্ট্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।

উপরন্তু, এই ভিটামিনের ঘাটতি হাইপোক্যালসেমিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে পায়ে খিঁচুনি, ক্লান্তি এবং পেশীর দুর্বলতা দেখা দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি হলো, গুরুতর ভিটামিন ডি ঘাটতি ডিমেনশিয়ার উচ্চ ঝুঁকির সাথে এবং মস্তিষ্কের আয়তন হ্রাসের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যাওয়া ডিমেনশিয়ার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ভিটামিন ডি অবস্থা বজায় রাখার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। মস্তিষ্কে ভিটামিন ডি রিসেপ্টরগুলির উপস্থিতি এই সংযোগকে যৌক্তিক করে তোলে, যেখানে কম ভিটামিন ডি স্তর অ্যালজাইমার রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ডি সম্পূরক গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, কারণ এটি রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অত্যধিক বাড়িয়ে দিতে পারে, যা বিপজ্জনক হতে পারে। রক্তে ভিটামিন ডি-এর সঠিক অবস্থা নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা, যেখানে সাধারণত ২৫-হাইড্রোক্সিভিটামিন ডি বা ২৫(ওএইচ)ডি পরিমাপ করা হয়। আদর্শ মাত্রা সাধারণত ৩০ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটার (ng/mL) এর উপরে থাকা উচিত, যেখানে ১০ ng/mL এর নিচে মারাত্মক ঘাটতি নির্দেশ করে। ভারতে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের ভিটামিন ডি স্তর অপর্যাপ্ত, যা এই পুষ্টির ঘাটতিকে একটি ব্যাপক জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করে। এই পুষ্টির ঘাটতি মোকাবেলায় সূর্যের আলো, খাদ্য এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূরক গ্রহণ অপরিহার্য, তবে অতিরিক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Internewscast Journal

  • University of South Australia

  • The London Osteoporosis Clinic Editorial Team

  • MedPodLA - Daniel, Ghiyam MD - Beverly HIlls CA 90210 - A4M

  • Dr. Raj Dasgupta (2026) - Sleep Advisor

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।