বিছানার পাশে মোবাইল ফোন: দীর্ঘায়ু ও গভীর ঘুমের জন্য ঝুঁকি
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালে সতর্ক করেছেন যে, রাত্রিকালে শয্যার সন্নিকটে মোবাইল ফোন রাখা পুনরুদ্ধারমূলক ঘুম এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ডিভাইসগুলি থেকে নিঃসৃত নীল আলো সক্রিয়ভাবে মেলাটোনিন উৎপাদনকে বিলম্বিত করে বা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়, যা রাতের বিশ্রামের জন্য অপরিহার্য একটি হরমোন। মেলাটোনিন হরমোন পেনিয়াল গ্রন্থি দ্বারা নিঃসৃত হয় এবং এটি শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জেগে থাকা ও ঘুমানোর প্রাকৃতিক জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন অন্ধকার হয়, তখন শরীরে মেলাটোনিন বৃদ্ধি পায় এবং আলোতে তা কমে যায়, যা আমাদের জাগিয়ে রাখে।
মেলাটোনিনের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে এমনকি যখন ফোনগুলি বিমান মোডে (airplane mode) থাকে অথবা স্বল্প বিকিরণ নির্গত করে। রাতে মোবাইল ফোনের দিকে তাকানো বা ব্যবহার করা হলে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ঘুম-সংকেতকে ব্যাহত করে, যার ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিক বিশ্রামের গুণমান হ্রাস পায়। জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ডাঃ মারিয়া ডি. নাচে ২০১৬ সালে স্লিপ জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন যে, রাতে ফোন ব্যবহারকারীদের মেলাটোনিনের মাত্রা কম থাকে, যা ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও, মোবাইল থেকে নির্গত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা মাথাব্যথা এবং পেশী ব্যথার মতো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞ ডিয়েগো সুয়ারেজ দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করেন যে, বিছানা থেকে কমপক্ষে দুই মিটার দূরে ফোন স্থাপন করা উচিত। তিনি মনে করেন, মস্তিষ্কের জন্য তার অত্যাবশ্যকীয় রাতের মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকার এবং শূন্য বিকিরণ প্রয়োজন। মেলাটোনিনের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেল ফোন টাওয়ারের সাথে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আদান-প্রদানের মাধ্যমে যে ফ্রিকোয়েন্সি নির্গত হয়, তা ব্রেন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে যাদের খুলি পাতলা। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার করলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ মিনিট ঘুম কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ঘাটতিতে রূপ নিতে পারে। শোবার ঘরকে ফোনমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা মন ও শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়, যা ঘুমের মান উন্নত করার একটি কার্যকর উপায়।
যারা ফোনকে অ্যালার্ম হিসেবে ব্যবহার করেন, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা ঐতিহ্যবাহী অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যেগুলিতে প্রাকৃতিক আলোর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই অভ্যাসটি ঘুমের বিলম্বতা (sleep latency) হ্রাস করে এবং সামগ্রিক দীর্ঘায়ু প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। মোবাইল ফোন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা দৃষ্টিশক্তির ক্ষতির কারণ হতে পারে। উপরন্তু, অনেক মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে পারে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
যুক্তরাষ্ট্রের 'বিহেইভিয়ারাল হেল্থ'-এর ক্লিনিক্যাল পরিচালক মেলিসা লেজেরে প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিটের একটি সময় নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন, যেখানে কোনো অবস্থাতেই ফোন ব্যবহার করা যাবে না, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, ফোন ব্যবহারের সময় সীমিত করা উচিত এবং রাতে বিছানা থেকে দূরে রাখা উচিত, বিশেষত চার্জিং অবস্থায় মাথার কাছে রাখলে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে। এই সচেতন পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু অর্জনের পথে অপরিহার্য।
11 দৃশ্য
উৎসসমূহ
HERALDO
C5N
AS.com
Heraldo de Aragón
Información
National Geographic
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
