চল্লিশের কোঠায় জৈবিক পরিবর্তন ও জীবনের দ্বৈত চাপের সন্ধিক্ষণ
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
চল্লিশের কোঠাকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের সবচেয়ে ক্লান্তিকর দশক হিসেবে চিহ্নিত করছে উদীয়মান বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য। এই দশককে ক্লান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করার মূলে রয়েছে কোষীয় স্তরে জৈবিক কার্যকলাপের হ্রাস এবং জীবনের সর্বোচ্চ দায়িত্বের ভার। কোষের শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্র, অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়া, তাদের কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে, যা সামগ্রিক জীবনীশক্তিকে প্রভাবিত করে।
শারীরিক সক্ষমতা এবং পেশী শক্তি সাধারণত ৩৫ বছর বয়স থেকেই কমতে শুরু করে, যা সময়ের সাথে সাথে আরও প্রকট হয়। এই অবনতির প্রধান কারণ হলো মাইটোকন্ড্রিয়াল দক্ষতার হ্রাস, যার ফলে কোষীয় শক্তি উৎপাদন কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ত্রিশ বছর বয়সের পরে মাইটোকন্ড্রিয়াল কার্যকারিতা প্রতি দশকে প্রায় ৮% হারে হ্রাস পেতে পারে, যার অর্থ হলো পঞ্চাশ বছর বয়সের মধ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ক্ষমতা প্রায় ১৬% কমে যেতে পারে। এই কোষীয় শক্তি হ্রাস সরাসরি দৈনন্দিন ক্লান্তি এবং পুনরুদ্ধারের ধীর গতির সাথে সম্পর্কিত।
এই দশকে মহিলাদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষত পেরিমেনোপজের সাথে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলি, ঘুমের গুণমান এবং শক্তির স্তরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের ওঠানামা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অংশগুলিকে প্রভাবিত করে। প্রায় ৪০% থেকে ৬০% পেরিমেনোপজাল মহিলা ঘুমের সমস্যা অনুভব করেন, যার মধ্যে অনিদ্রা এবং রাতের বেলা ঘাম হওয়া অন্তর্ভুক্ত, যা বিশ্রামহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
এই জৈবিক চ্যালেঞ্জগুলির সাথে 'স্যান্ডউইচ জেনারেশন'-এর ক্রমবর্ধমান চাপ যুক্ত হয়, যা জীবনীশক্তিকে আরও নিঃশেষিত করে। এই প্রজন্মের প্রাপ্তবয়স্করা, যাদের বয়স সাধারণত চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠায়, তারা একই সাথে সন্তান লালন-পালন এবং বয়স্ক পিতামাতার যত্ন নেওয়ার দ্বৈত দায়িত্ব পালন করেন। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মায়েরা অন্য যেকোনো বয়সের গোষ্ঠীর চেয়ে বেশি চাপ অনুভব করেন। উপরন্তু, এই সময়ের আর্থিক চাপও গুরুতর, যেখানে প্রায় ২৯% স্যান্ডউইচ জেনারেশনের সদস্য আর্থিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে 'অত্যন্ত চিন্তিত' থাকেন। এই সম্মিলিত চাপ কার্ডিওভাসকুলার এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সমন্বয়কেও প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে চল্লিশের কোঠাকে একটি 'পুনঃসমন্বয়ের দশক' হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, যেখানে এই বহুমুখী ক্লান্তি মোকাবিলার জন্য বিশ্রাম এবং পুষ্টির ক্ষেত্রে নতুন কৌশল গ্রহণ করা অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, নিয়মিত প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণ এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ পেশী হ্রাস এবং বিপাকীয় মন্থরতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে। এই সময়ে মানসিক চাপ সামলানোর জন্য সহায়তা চাওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা প্রায়শই ঘুমের গুণমান হ্রাসের শক্তিশালী পূর্বাভাসক হিসেবে কাজ করে।
এই দশকে শারীরিক কর্মক্ষমতা হ্রাস কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং এটি একটি প্রাকৃতিক জৈবিক পরিবর্তনের অংশ। ইস্ট্রোজেনের হ্রাস অ্যারোবিক ক্ষমতা এবং পেশী পুনরুদ্ধারের ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার জন্য, কেবল জীবনযাত্রার পরিবর্তন নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তির উৎস, অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়ার স্বাস্থ্য বজায় রাখার দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যা এই সময়ে কার্যকর শক্তি উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
News18
VICE
UConn Today
Narayana Health
Milann | The Fertility Specialist
Texas Public Radio
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
