মনোবিদদের যৌথ উদ্যোগে স্ব-যত্নকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
মনোবিদ প্যাট্রিসিয়া সাইকোলোগা এবং ইয়োলান্ডা কিউভাস তাদের যৌথ উপস্থাপনা "অটোকুইডোডো পারা লা ভিদা রিয়েল" (বাস্তব জীবনের জন্য স্ব-যত্ন)-এর মাধ্যমে স্ব-যত্নকে একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ওপর জোর দিচ্ছেন। এই অনুষ্ঠানটি পেশাদার গভীরতা এবং হাস্যরসের সংমিশ্রণে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য সময়, শক্তি এবং অর্থ বিনিয়োগের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে, যার মধ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রামও অন্তর্ভুক্ত। এই উদ্যোগটি ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যা সংকটকালীন প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে মানসিক স্বাস্থ্যের সক্রিয় ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
কিউভাস এবং প্যাট্রিসিয়া সাইকোলোগা তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে প্রতিফলন জাগাতে চান, বিশেষত বার্নআউটের লক্ষণগুলি নিয়ে, যেমন ব্যক্তিগত সময়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় অপরাধবোধ অনুভব করা বা সীমা নির্ধারণে সংগ্রাম করা। তারা দর্শকদের শেখান কীভাবে অপরাধবোধকে বিদায় জানাতে হয় এবং আবেগিক সুস্থতা উন্নত করার জন্য ব্যবহারিক কৌশলগুলি প্রয়োগ করতে হয়। এই প্রচারণার মূল বক্তব্য হলো স্ব-যত্নকে কোনো পুরস্কার হিসেবে না দেখে এটিকে জন্মগত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, যেখানে মানুষের নিজেদের জন্য সময়, শক্তি ও অর্থ ব্যয় করার অধিকার রয়েছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
এই মনোবিদদের উপস্থাপনাটি ভালেন্সিয়া, মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এই বার্তার ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করছে। তারা এমন কৌশল প্রদান করেন যা দর্শকদের শেখায় কীভাবে নিজেদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় যে অপরাধবোধ আসে, তা কাটিয়ে উঠতে হয়। এই কৌশলগুলি কেবল বাহ্যিক প্রতিকার বা ভোগবাদের ওপর নির্ভর না করে আত্ম-প্রতিফলন এবং আত্ম-সহানুভূতির ওপর জোর দেয়। এই প্রচেষ্টাগুলি মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল উপসর্গ মোকাবিলার বিষয় হিসেবে না দেখে জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পশ্চিমা বিশ্বে স্ব-যত্ন তুলনামূলকভাবে নতুন ধারণা হলেও, প্রাচ্যের সংস্কৃতিতে এর একটি প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে, যা অসুস্থতা প্রতিরোধের ওপর জোর দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাবিদ্যায় 'চি' নামক জীবনীশক্তিকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে কিগং, ধ্যান এবং যোগার মতো কৌশলগুলি অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে ব্যবহৃত হয়। এই ধারণাটি আধুনিক পশ্চিমা স্ব-যত্নের ধারণার সঙ্গে মিলে যায়, যা শারীরিক স্বাস্থ্য যেমন সুষম খাদ্য, ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পাশাপাশি মন ও আবেগের যত্ন নেওয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞান এই ধারণাকে সমর্থন করে যে, স্ব-যত্ন একটি সামগ্রিক বিনিয়োগ, যা স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিপূর্ণতা বৃদ্ধি করে।
তবে, স্ব-যত্ন চর্চার ক্ষেত্রে কিছু প্রবণতা সমালোচিত হয়েছে, যেমন অত্যধিক ইতিবাচকতা বা 'টক্সিক পজিটিভিটি', যা প্রকৃত মানবিক সংগ্রামকে আড়াল করে। মনোবিজ্ঞানী ডঃ র্যাচেল গোল্ডম্যানের মতে, সত্যিকারের স্ব-যত্ন হলো সমস্ত আবেগকে স্বীকার করা, কেবল ইতিবাচকতা বজায় রাখার জন্য সেগুলোকে দমন করা নয়। একইভাবে, কিছু প্রবণতা অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিকতাকে উৎসাহিত করে, যা ব্যক্তিগত বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে এবং মানুষকে আরও আত্মকেন্দ্রিক করে তুলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, প্যাট্রিসিয়া এবং ইয়োলান্ডা প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়ে স্ব-যত্নকে একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
El Periódico de Aragón
Teatro Olympia
Baluarte
Yolanda Cuevas Ayneto
Palacio de Congresos de Salamanca
I Start Tomorrow
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
