ব্রাজিলে সরকারি যোগাযোগ সরলীকরণে জাতীয় নীতি কার্যকর: স্বচ্ছতার নতুন দিগন্ত

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ব্রাজিল সরকার সম্প্রতি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য হলো সরকারি ক্ষেত্রে যোগাযোগ পদ্ধতিকে সুসংগঠিত ও সরল করা। রাষ্ট্রপতি লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা কর্তৃক ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর এই নতুন আইনটি জারি করা হয় এবং ১৭ নভেম্বর সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়। এই আইন, যার সংখ্যা ১৫.২৬৩, কার্যকর করার মাধ্যমে 'জাতীয় সরল ভাষা নীতি' প্রতিষ্ঠা করা হলো। এই আইনের মূল নির্দেশনা হলো, ফেডারেল, রাজ্য এবং পৌরসভা স্তরের সকল সরকারি সংস্থাকে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্পষ্ট, উদ্দেশ্যমূলক এবং সহজে বোধগম্য ভাষা ব্যবহার করতে হবে।

এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের জন্য সরকারি তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়া, বোঝা এবং ব্যবহার করা নিশ্চিত করা। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজনীয়তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনটিতে সরকারি চিঠিপত্রের জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছোট বাক্য ব্যবহার, কর্তৃবাচ্যের প্রাধান্য দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় পারিভাষিক শব্দ বা কম প্রচলিত বিদেশি শব্দ পরিহার করা। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্ভুক্তির ওপর। এই নীতিটি অক্ষম ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত আইন (আইন নং ১৩.১৩৬/২০১৫) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা নিশ্চিত করে যেন সীমিত সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও বার্তাগুলো সহজে বুঝতে পারে।

আইন নং ১৫.২৬৩-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো পর্তুগিজ ভাষার প্রমিত ব্যাকরণগত নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করা। এর মধ্যে রয়েছে পর্তুগিজ ভাষার অফিসিয়াল সংশোধিত অভিধান (VOLP) এবং ২০০৮ সালের বানান চুক্তিতে উল্লিখিত নিয়মাবলী। এই বিধানের অধীনে, লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত নতুন শব্দ রূপগুলি, যেমন 'todes', 'elu' বা 'amigues' – যা নন-বাইনারি ব্যক্তিদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয় – সরকারি নথিতে ব্যবহার করা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের সমর্থকরা মনে করেন, এটি সরকারি নথিতে ব্যাকরণগত মান এবং স্পষ্টতা বজায় রাখার জন্য জরুরি। তবে, সমালোচকরা বলছেন যে এই নিষেধাজ্ঞা ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা, যার মধ্যে জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর সুপারিশ রয়েছে, তার পরিপন্থী, কারণ এই সংস্থাগুলো লিঙ্গ-সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহারে উৎসাহ দেয়।

এই উদ্যোগটি মূলত ডেপুটি এরিকা কোকাইয়ের প্রস্তাবনা থেকে উদ্ভূত, যার লক্ষ্য ছিল 'সহজ ভাষা' ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসা। প্রতিনিধি পরিষদে আইনটি পাস হওয়ার সময় লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন সংক্রান্ত বিতর্কিত সংশোধনীটি যুক্ত করা হয়। তবে, ব্রাজিলীয় ভাষাতত্ত্ব সমিতি (Abralin) রাষ্ট্রপতির একটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি মূল প্রকল্পের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে আংশিক ভেটো দিয়েছিলেন, যেখানে সরকারি অনুশীলনের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল।

এই নতুন নিয়মাবলী কার্যকর করার জন্য নির্বাহী বিভাগকে ৯০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত নির্দেশনা তৈরি করতে হবে এবং এটি পৌরসভা সহ ক্ষমতার সকল স্তরে প্রযোজ্য হবে। পরামর্শক প্যাট্রিসিয়া মাতুশেভস্কির মতে, এই আইনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এটি প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন দাবি করে। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ামুখী যোগাযোগ থেকে সরে এসে নাগরিকদের ওপর কেন্দ্র করে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। এই পরিবর্তনই নিশ্চিত করবে যে সরকারি পরিষেবাগুলো সত্যিই জনগণের জন্য সহজলভ্য হচ্ছে।

উৎসসমূহ

  • Estadão

  • Estadão

  • Câmara dos Deputados

  • Agência Brasil

  • Abralin

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।