আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু 3I/ATLAS পর্যবেক্ষণ: ইউরোপা ক্লিপার ও জুস মিশনের সম্মিলিত অবদান

সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one

3I/ATLAS ধূমকেতু, ESA Juice Navigation Camera দ্বারা দেখা गया — ESA

গত ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে আবিষ্কৃত তৃতীয় নিশ্চিত আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু, ধূমকেতু 3I/ATLAS, বর্তমানে গবেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। এই মহাজাগতিক পর্যটকের কক্ষপথের উৎকেন্দ্রিকতা (eccentricity) ৬.১৩৯±০.০০০০১, যা এখন পর্যন্ত পরিমাপ করা যেকোনো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যে সর্বোচ্চ, যা এর পথকে অত্যন্ত প্রসারিত এবং অধিবৃত্তাকার নির্দেশ করে। ধূমকেতুটি ৩০ অক্টোবর, ২০২৫-এ সূর্যের নিকটতম বিন্দুতে (অনুসূর) পৌঁছায়, যা মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথের অভ্যন্তরে ছিল, কিন্তু সেই সময়ে সৌর সংযোগের কারণে পৃথিবীর টেলিস্কোপগুলো এর সর্বোচ্চ কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি।

কমেট 3I/ATLAS - Nov. 6, 2025, NASA-এর Europa Clipper স্পেসক্রাফ্টে অবস্থিত Europa Ultraviolet Spectrograph যন্ত্র দ্বারা। NASA

এই পর্যবেক্ষণগত শূন্যতা পূরণে নাসা'র জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (JPL) কর্তৃক পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে ইউরোপা ক্লিপার মহাকাশযান। অক্টোবর, ২০২৪-এ উৎক্ষেপিত এই যানটি সূর্য থেকে বেরিয়ে আসার পর, অর্থাৎ নভেম্বর, ২০২৫-এ, ধূমকেতুটিকে পর্যবেক্ষণ করে। ৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ১০২ মিলিয়ন মাইল দূর থেকে ইউরোপা ক্লিপার তার আল্ট্রাভায়োলেট স্পেকট্রোগ্রাফ (UVS) যন্ত্র পুনর্বিন্যস্ত করে ধূমকেতুটির উপর নজর রাখে। এই যন্ত্রটি মূলত বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের জন্য তৈরি হলেও, এটি সূর্যমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে ধূমকেতুটির ধূলিকণা ও প্লাজমা লেজের একটি মূল্যবান নিম্নপ্রবাহের দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম হয়। সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SwRI)-এর ডঃ কার্ট রেথারফোর্ড যেমন উল্লেখ করেছেন, এই পর্যবেক্ষণে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ধূলিকণার বর্ণালীগত ছাপ সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা ধূমকেতুটির বহির্গমন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি সূক্ষ্ম ধারণা প্রদান করে।

একই সময়ে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর জুপিটার আইসি মুন এক্সপ্লোরার (JUICE) মহাকাশযানটিও কৌশলগত অবস্থানে থেকে 3I/ATLAS পর্যবেক্ষণ করে। জুআইসি তার নেভিগেশন ক্যামেরা (NavCam) ব্যবহার করে ২ নভেম্বর, ২০২৫-এ একটি ছবি তোলে, যা ৪ নভেম্বর এর নিকটতম দূরত্বের (প্রায় ৬৬ মিলিয়ন কিমি) ঠিক আগে ধারণ করা হয়েছিল। জুআইসি-এর পাঁচটি প্রধান বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের ডেটা, যার মধ্যে এর নিজস্ব ইউভিএসও রয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৃথিবীতে পৌঁছাবে, কারণ মহাকাশযানটি তাপ ঢাল হিসেবে তার প্রধান উচ্চ-লাভের অ্যান্টেনা ব্যবহার করেছিল। জুআইসি-এর উৎক্ষেপণ হয়েছিল এপ্রিল ১৪, ২০২৩-এ, এবং এটি ২০৩১ সালে বৃহস্পতিতে পৌঁছাবে।

ইউরোপা ক্লিপারের সূর্যমুখী দৃষ্টিকোণ এবং জুআইসি-এর সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয় বিজ্ঞানীদের ধূমকেতুটির গঠন এবং লেজের কাঠামো সম্পর্কে একটি সামগ্রিক, ত্রিমাত্রিক ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করবে। এই দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষত যখন পৃথিবীর টেলিস্কোপগুলি ধূমকেতুটিকে দেখতে পারছিল না, তখন ডেটার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান পূরণ করে। 3I/ATLAS, যা ধনু রাশির দিক থেকে সৌরজগতে প্রবেশ করেছিল, এখন বহির্গামী পথে রয়েছে এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বৃহস্পতিকে অতিক্রম করার পর সৌরজগৎ ত্যাগ করবে। এই রেকর্ড-ব্রেকিং উৎকেন্দ্রিকতা প্রমাণ করে যে বস্তুটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো নক্ষত্র ব্যবস্থা থেকে এসেছে, যা দূরবর্তী নক্ষত্র ব্যবস্থার রাসায়নিক ও ভৌত প্রক্রিয়াগুলির উপর একটি অনন্য জানালা উন্মোচন করে।

19 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Universe Today

  • NASA

  • Southwest Research Institute

  • Medium

  • SciTechDaily

  • Universe Today

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।