ইতালির পুগলিয়া অঞ্চলের আলতামুরা শহরের ঐতিহ্যবাহী রুটির সংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিচ্ছেন দুই প্রবীণ নারী, গ্রাজিয়েলা ইনকাম্পো এবং তেরেসা কাগলিয়া। তাদের প্রচেষ্টায় ১৪শ শতক থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য বহনকারী ঐতিহাসিক বেকারি 'আন্তিকো ফোরনো সান্তা কাটেরিনা' সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে পুনরুজ্জীবিত এই বেকারিটি বর্তমানে স্ট্রেচিয়েটেলা সহ মিটার-লম্বা রুটি এবং ফোকাসিয়ার মতো আঞ্চলিক বিশেষত্ব প্রস্তুত করে, যা স্থানীয় রন্ধনশিল্পের গভীরতা তুলে ধরে।
ঐতিহাসিকভাবে, এই বেকারিটি ১৩৯১ সাল থেকে আলতামুরার প্রাচীনতম পাবলিক ওভেন হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে একসময় নাগরিকদের রুটি সেঁকা হতো। রুটি তৈরির এই প্রথা কেবল খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল স্থানীয় সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় ব্যক্তিগত ওভেনের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় নাগরিকদের এখানে রুটি সেঁকতে হতো এবং রুটি চিহ্নিত করার জন্য পরিবারের প্রধানের আদ্যক্ষর দিয়ে স্ট্যাম্প করা হতো।
ইনকাম্পো এবং কাগলিয়া তাদের অনলাইন উপস্থিতির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুরক্ষিত ভৌগোলিক সূচক (PGI) প্রাপ্ত 'পানে ডি আলতামুরা' সহ এই স্থানীয় রন্ধনশৈলীর সংরক্ষণকে উৎসাহিত করছেন। এই রুটি তৈরির জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আর্কানজেলো, আপুলো, ডুলিয়ো বা সিমিতো জাতের ডুরম গম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, যা এর স্বতন্ত্র স্বাদ ও গুণমান নিশ্চিত করে। 'পানে ডি আলতামুরা' ইউরোপের প্রথম রুটি যা PDO স্ট্যাটাস লাভ করে, যা এর উৎপাদনের কঠোর মানদণ্ড এবং আঞ্চলিক উপাদানের উপর নির্ভরতা প্রমাণ করে। এই রুটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা, যা পূর্বে কৃষক ও মেষপালকদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ এটি প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত তাজা থাকতে পারত।
এই পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে, আন্তিকো ফোরনো সান্তা কাটেরিনা বর্তমানে 'ব্রেড এক্সপেরিয়েন্স' নামে একটি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই কার্যক্রমে দর্শনার্থীরা মধ্যযুগীয় প্রাঙ্গণে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত রুটি তৈরির প্রক্রিয়া সরাসরি দেখতে পারেন। এই অভিজ্ঞতায় সকালের নাস্তার জন্য উপযুক্ত রুটির প্রস্তুত প্রণালী শেখানো হয়, যার সাথে স্থানীয় চিজ যেমন বুররাটা, স্কামোরজা এবং মোজারেলা তৈরির প্রদর্শনী এবং ফোকাসিয়া তৈরির হাতে-কলমে কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই উদ্যোগটি ঐতিহ্যবাহী বেকিং পদ্ধতি বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি আলতামুরার ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে একটি সামাজিক আকর্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।




