চিলির ভিনা ভিআইকে বিশ্বসেরা ওয়াইনারি ২০২২-এর খেতাব জিতল

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

চিলির মিল্লাউয়ে উপত্যকায় অবস্থিত ভিনা ভিআইকে (Viña VIK) আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বের সেরা আঙ্গুর ক্ষেত ২০২৫’ (The World's Best Vineyard 2025) হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, যা রিসাই ও টক দ্বারা পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছিল, ঘোষণা করা হয় ২০২২ সালের ১৯শে নভেম্বর তারিখে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট রিভারের এক জমকালো অনুষ্ঠানে। এই স্বীকৃতি চিলির ওয়াইন পর্যটন শিল্পকে বিশ্ব মঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যা বিজ্ঞান, স্থাপত্য নকশা এবং স্থায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকারের এক সফল সমন্বয়কে তুলে ধরে।

এই আঙ্গুর ক্ষেতটি মূলত নরওয়েজীয় উদ্যোক্তা আলেকজান্ডার এবং ক্যারি ভিক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারা ২০০৪ সালে এই উদ্যোগ শুরু করেন, তবে এর আগে দু’বছর ধরে নিখুঁত টেরোয়ার বা মাটির গুণাগুণ অনুসন্ধানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়েছিলেন। তাদের এই বিশাল সম্পত্তিটি ৪৪৫০ হেক্টর বিস্তৃত, যদিও এর একটি ক্ষুদ্র অংশেই কেবল আঙ্গুর চাষ করা হয়। মিল্লাউয়ে উপত্যকা, যা ম্যাপুচে আদিবাসীদের কাছে ‘স্বর্ণের স্থান’ (Lugar de Oro) নামে পরিচিত, সেখানে ১২টি ভিন্ন সাব-অ্যালভি রয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ক্ষুদ্র জলবায়ু থাকায় এখানকার ওয়াইনগুলিতে এক অসাধারণ সতেজতা এবং কাঠামো লক্ষ্য করা যায়।

ভিআইকে (VIK) ২০১৯ সালে এই র‍্যাঙ্কিং শুরু হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে। ২০২৩ সালে তারা তৃতীয় স্থান এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার পর, অবশেষে তারা সর্বোচ্চ আসনে আরোহণ করল। এই এস্টেটের স্থাপত্যশৈলী এক বিশেষ আকর্ষণ। চিলির স্থপতি স্মিলিয়ান রাডিচ এবং লোরেটো লিওনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই স্থাপনাটি তৈরি হয়েছে। আঙ্গুর ক্ষেতের বেশিরভাগ অংশ মাটির নিচে নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক শীতলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং তাপমাত্রা সর্বদা ৫৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটে স্থির রাখে। ভবনটির উপরে রয়েছে ব্রোঞ্জ টাইটানিয়ামের তৈরি একটি ভাস্কর্যময় অর্ধস্বচ্ছ ছাদ, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটি সাদা ডানা ভবনের উপর ভেসে আছে।

ভিআইকে-এর মূল দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ। এর মধ্যে রয়েছে বিশাল প্রাকৃতিক এলাকা সংরক্ষণ করা এবং উদ্ভাবনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেমন ব্যারোইর (Barroir) সিস্টেম। ব্যারোইর হলো এক বিশেষ ধরনের পরিপক্কতা প্রক্রিয়া, যেখানে ওয়াইন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত পিপাগুলি এস্টেটের নিজস্ব কাঠ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এর ফলে ওয়াইনগুলি আশেপাশের বনের বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করতে পারে। স্থাপত্য, প্রকৃতি এবং ওয়াইন তৈরির এই সমন্বিত প্রয়াসকে আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলী, যারা ৭০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত, বিশেষভাবে প্রশংসা করেছে।

চিলির এই সাফল্য প্রমাণ করে যে দেশটি ওয়াইন উৎপাদনে কতটা এগিয়ে গেছে। এই বছর শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে চিলির মোট ছয়টি আঙ্গুর ক্ষেত স্থান পেয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী ওয়াইন পর্যটনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে শিল্প, রোমাঞ্চ এবং চমৎকার ওয়াইনের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে উপভোগ করা যাচ্ছে। ভিআইকে-এর এই বিজয় কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং চিলির ওয়াইন শিল্পের বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রতীক।

উৎসসমূহ

  • El Mostrador

  • Forbes

  • PR Newswire

  • International Traveller

  • wein.plus Wine News

  • Luxury Lifestyle Magazine

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।