২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ১৯ নম্বর ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন। "ক্রিপ্টোব্যাংক এবং ডিজিটাল টোকেন নিয়ন্ত্রণের বিশেষ বিষয়সমূহ" শীর্ষক এই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে "ক্রিপ্টোব্যাংক" নামক একটি নতুন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পথ প্রশস্ত করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে ডিজিটাল সম্পদের লেনদেনকে একটি দ্বৈত তদারকি ব্যবস্থার অধীনে একীভূত করা। এটি বেলারুশকে আর্থিক তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্যগুলোর জন্য একটি আইনি ভিত্তি প্রদান করবে।
১৯ নম্বর ডিক্রির বিধান অনুযায়ী, একটি ক্রিপ্টোব্যাংককে অবশ্যই একটি জয়েন্ট-স্টক কোম্পানি হতে হবে এবং হাই টেক পার্কের (HTP) আবাসিক সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে। এছাড়া বেলারুশের ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি বিশেষ তালিকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল টোকেন ব্যবহারের পাশাপাশি সাধারণ ব্যাংকিং, পেমেন্ট এবং সেটেলমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার একচেটিয়া অধিকার লাভ করবে। ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার ইগোরভ উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ফিনটেক সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি বহুল প্রতীক্ষিত পদক্ষেপ।
নতুন এই নীতিমালার একটি প্রধান দিক হলো দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, যেখানে ন্যাশনাল ব্যাংক এবং এইচটিপির (HTP) সুপারভাইজরি বোর্ড যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ক্রিপ্টোব্যাংকগুলোকে নন-ব্যাংকিং ক্রেডিট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সমস্ত আইনি প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে মূলধনের পর্যাপ্ততা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (AML/CFT) এবং গ্রাহক স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এইচটিপি সুপারভাইজরি বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।
এই পদক্ষেপটি মূলত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত "ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়ন" সংক্রান্ত ৮ নম্বর ডিক্রির একটি ধারাবাহিকতা। ওই ডিক্রিটি টোকেন লেনদেনের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছিল এবং এইচটিপি বাসিন্দাদের জন্য কর সুবিধা প্রদান করেছিল। রাষ্ট্রপতি এর আগে ডিজিটাল অ্যাসেট মার্কেটে স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন, বিশেষ করে বিদেশি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের সমস্যার প্রেক্ষিতে। প্রথাগত ব্যাংকিং পরিবেশের সাথে ক্রিপ্টো কার্যক্রমের এই একীকরণ গ্রাহকদের জন্য চিরাচরিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা এবং ডিজিটাল লেনদেনের দ্রুত গতির এক অনন্য সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
বেলারুশের ন্যাশনাল ব্যাংক ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির কথা মাথায় রেখে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়াল পেমেন্ট সিস্টেম দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ২০২৫ সালে মোগিলেভ অঞ্চলে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর তুলনায় ক্রিপ্টোব্যাংকগুলোর ব্যাপক কার্যকারিতা এবং বহুমুখী সুবিধার কারণে এটি ক্রিপ্টো শিল্পের সাথে যুক্ত বিনিয়োগকারীদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে।
বেলারুশের এই নতুন আর্থিক মডেলটি বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ব্যাংক এবং এইচটিপির এই সমন্বিত প্রচেষ্টা কেবল স্থানীয় বাজার নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্যও একটি নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। এর ফলে বেলারুশ ভবিষ্যতে ইউরোপের একটি প্রধান ফিনটেক হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।




