মেক্সিকোর ফেলিপে অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরে যাত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে থেরাপি কুকুরের বিশেষ উদ্যোগ

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

Istanbul Airport-এ থেরাপি কুকুর

মেক্সিকোর জুম্পাঙ্গো রাজ্যে অবস্থিত ফেলিপে অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (AIFA) ভ্রমণকারীদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানে চড়ার আগে অনেক যাত্রীই তীব্র উদ্বেগ, ভয় বা মানসিক চাপে ভোগেন। যাত্রীদের এই আবেগীয় অস্থিরতা দূর করতে এবং তাদের যাত্রা আরও আরামদায়ক করতে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে চার সদস্যের একটি বিশেষ থেরাপি কুকুর দল। এই প্রশিক্ষিত প্রাণীগুলো মূলত যাত্রীদের মানসিক সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে তাদের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি যাত্রী সেবার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এই বিশেষ দলে বিভিন্ন প্রজাতির চারটি কুকুর রয়েছে: মার্শাল নামের একটি ফ্রেঞ্চ বুলডগ, মামুত নামের একটি ল্যাব্রাডর, ডেল্টা নামের একটি ডাকসুন্ড এবং টাচো নামের একটি সামোয়েড। এই চারপেয়ে কর্মীদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করেন ন্যাশনাল গার্ডের (Guardia Nacional) সদস্যরা। তারা বিমানবন্দরের অপেক্ষা করার স্থান, আগমন এবং প্রস্থান এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল দেয়।

যাত্রীরা যখন এই কুকুরগুলোর সংস্পর্শে আসেন এবং তাদের আদর করেন, তখন তাদের মানসিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাণীদের সাথে মানুষের এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া শরীরে অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিনের মতো 'সুখী হরমোন' নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। একই সাথে এটি মানবদেহে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ফেলিপে অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই মেক্সিকোর প্রথম বিমানবন্দর হিসেবে এই ধরনের আধুনিক ও মানবিক সেবা চালু করার গৌরব অর্জন করেছে।

বিমানবন্দরে থেরাপি কুকুরের এই ধারণাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর জনপ্রিয়তা পায়। সেই সময় আতঙ্কিত বিমানযাত্রীদের আশ্বস্ত করার জন্য এই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল। এই উদ্যোগের অভাবনীয় সাফল্যের ফলে বিশ্বজুড়ে এর প্রসার ঘটে এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সাল নাগাদ সারা বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রায় ৫৮টি থেরাপি কুকুর কর্মসূচি চালু ছিল। মেক্সিকোর এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত সেই আন্তর্জাতিক ধারারই একটি সফল প্রতিফলন।

এই কর্মসূচির প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত লেফটেন্যান্ট ভার্গাস জানিয়েছেন যে, বর্তমান পাইলট প্রকল্পের ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক। যদি এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে এআইএফএ (AIFA) তাদের এই দলে কুকুরের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার প্রতি বিমানবন্দরের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করে। এই কুকুরগুলোকে অত্যন্ত কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় যাতে তারা বিমানবন্দরের কোলাহলপূর্ণ ও ব্যস্ত পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের (IST) মতো বিশ্বের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতেও এই ধরনের কঠোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ফেলিপে অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরেও কুকুরগুলোর নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সাথে তাদের আচরণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এই উদ্যোগটি কেবল যাত্রীদের ভয় দূর করছে না, বরং বিমানবন্দরের যান্ত্রিক পরিবেশে এক টুকরো মানবিকতা ও আনন্দের ছোঁয়া নিয়ে এসেছে। আধুনিক বিমান চালনা শিল্পে যাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি এই গুরুত্বারোপ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • El Heraldo de M�xico

  • El Heraldo de México

  • Escapada H

  • La Crónica de Hoy

  • El Autómata

  • Revista Militar

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।