২০২৬ সালের ৭ই জানুয়ারি, ওয়াকায়ামা প্রদেশের কিনোকাবা শহরে অবস্থিত কিসি রেলওয়ে স্টেশনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই দিনে তৃতীয় বিড়াল স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিন রঙের এক বিড়াল, যার নাম ইয়োন্তামা। এই ঐতিহ্যটি ২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল, যা স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং লোকসানে চলা রেললাইনটিকে বাঁচাতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ওয়াকায়ামা ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিৎসুনোবু কোজিমা ব্যক্তিগতভাবে ইয়োন্তামাকে তার নতুন উপাধিসহ একটি বিশেষ পদক প্রদান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জাপানের রেলওয়ে খাতে যখন বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, তখন এই নতুন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন আশার আলো দেখায়।
কিসি স্টেশনটি কিসিগাওয়া লাইনের শেষ গন্তব্যস্থল। এই স্টেশনটি তার স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত, যা দেখতে অনেকটা বিড়ালের মুখের মতো—ছাদটি কান এবং প্রবেশদ্বারটি মুখের অনুকরণে তৈরি। এই লাইনটি রায়োবি গ্রুপের অধীনস্থ ওয়াকায়ামা ইলেকট্রিক রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত হয়। তারা 'তমা ডেনশা' এবং 'ইচিগো ডেনশা'-এর মতো থিমযুক্ত ট্রেনও পরিচালনা করে, যা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
বিড়ালদের এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের প্রথা শুরু হয়েছিল কিংবদন্তী তমা-কে দিয়ে, যাকে ২০০৭ সালে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অনুমান করা হয়, তার কার্যকালে স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ইয়েন অতিরিক্ত আয় হয়েছিল এবং এর ফলেই লাইনটি বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পায়। ২০১৫ সালের জুনে ১৬ বছর বয়সে তমার মৃত্যু হয়। এরপর তাকে শিন্তো প্রথা অনুসারে রেলওয়ের পৃষ্ঠপোষক দেবী হিসেবে মরণোত্তর সম্মান দেওয়া হয় এবং তার সম্মানে প্ল্যাটফর্মে একটি ছোট মন্দির স্থাপন করা হয়। তার উত্তরসূরি হিসেবে নীতামা ২০১৫ সালে দায়িত্ব নেন এবং ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন, তিনিও ১৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন এবং তাকেও মরণোত্তর 'সম্মানিত স্টেশন মাস্টার' উপাধি দেওয়া হয়।
ইয়োন্তামা, তার পূর্বসূরিদের মতোই, প্রতীকী ভূমিকা পালন করবে। নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টায় সে যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাবে এবং বিশেষ টুপি পরিধান করবে। তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাসস্থান ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইয়োন্তামার অভিষেক অনুষ্ঠানে, 'রোকুতামা' নামে আরেকটি বিড়ালকেও প্রশিক্ষণের জন্য আনা হয়, যে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি স্টেশনে বিড়ালদের ধারাবাহিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ।
বিড়াল স্টেশন কিপারদের প্রভাব যাত্রীর সংখ্যায় স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল। তমার নিয়োগের পর, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা ১৭% বৃদ্ধি পেয়েছিল। দোখলা রঙের বিড়াল ইয়োন্তামা এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে কীভাবে একটি সাধারণ ধারণা স্থানীয় জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।



