ইইউ আদালতের যুগান্তকারী রায়: ফ্লাইট বাতিল হলে মধ্যস্থতাকারীদের ফি-সহ পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে বিমান সংস্থাগুলোকে

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিচার আদালত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে। এই রায়ের ফলে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি নতুন আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে: যদি কোনো ফ্লাইট বাতিল করা হয়, তবে যাত্রীদের টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দিতে হবে। এর মধ্যে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির মতো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সমস্ত কমিশন এবং পরিষেবা ফি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইইউ-এর সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তটি আগে বিদ্যমান আইনি অস্পষ্টতা দূর করেছে এবং ইউরোপীয় বিমান চলাচল খাতে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এই রায়টি ক্ষতিপূরণের সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। এখন থেকে ইইউ রেগুলেশন ২৬১/২০০৪-এর আওতাভুক্ত সমস্ত বিমান সংস্থা, যার মধ্যে লুফথানসা (Lufthansa), এয়ার ফ্রান্স (Air France), কেএলএম (KLM), কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways), এমিরেটস (Emirates) এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স (American Airlines) অন্তর্ভুক্ত, তাদের গ্রাহকদের শুধুমাত্র মূল ভাড়াই নয়, বরং পরিশোধিত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে যে, যদি কোনো বিমান সংস্থা টিকিট বিক্রির জন্য মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করে, তবে এজেন্সির নেওয়া কমিশন টিকিটের মোট মূল্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে এটি একটি "অনিবার্য" উপাদান হিসেবে সম্পূর্ণ ফেরতের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের মতো ইইউ সদস্য দেশগুলো এই নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাগুলো কার্যকর করছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতিকূল শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে ১৪টি ইউরোপীয় দেশে ৩,৭০০টিরও বেশি বিলম্ব এবং ৪০০টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে। এই ধরনের পরিস্থিতির পর ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এই রায়ের একটি মূল দিক হলো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিশোধিত ফির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির এই নতুন সিদ্ধান্তটি আগের সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়েছে, যেখানে এজেন্সির কমিশন ফেরত দেওয়ার জন্য বিমান সংস্থাকে সেই ফির সঠিক পরিমাণ জানতে হতো। এখন থেকে, যদি কোনো বিমান সংস্থা টিকিট বিক্রির দায়িত্ব কোনো এজেন্টের হাতে ন্যস্ত করে, তবে ফির সঠিক পরিমাণ জানা আর বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। এটি যাত্রীদের জন্য একটি বড় জয়, কারণ এটি বিক্রয় মাধ্যম নির্বিশেষে পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার জন্য বিমান সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার বহন করতে বাধ্য করে।

২০০৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গৃহীত ইইউ রেগুলেশন ২৬১/২০০৪ মূলত বোর্ডিং অস্বীকার, ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বের ক্ষেত্রে যাত্রীদের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে। আদালতের এই নতুন ব্যাখ্যা রেগুলেশনটির সুরক্ষা প্রদানের পরিধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে। ফ্লাইট বাতিলের সম্মুখীন যাত্রীদের এখন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা যেন তাদের রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। তাদের নিশ্চিত করা উচিত যে, ফেরতের অংকের মধ্যে শুধুমাত্র ফ্লাইটের মূল খরচ নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সমস্ত ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউরোপীয় আইনি ব্যবস্থা বর্তমানের জটিল বুকিং বাজারের প্রেক্ষাপটে ভ্রমণকারীদের উচ্চতর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তাদের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করছে। এই ঐতিহাসিক রায়টি কেবল যাত্রীদের আর্থিক নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং বিমান সংস্থা এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে বিমান সংস্থাগুলো তাদের টিকিট বিক্রির অংশীদারদের সাথে চুক্তির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে, যা পরোক্ষভাবে গ্রাহক পরিষেবার মান উন্নত করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Travel And Tour World

  • Avio Space

  • Eunews

  • CN

  • News from Malaysia

  • Bernama

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।