
২০২৬-২০২৭ সালের তেল বাজার
শেয়ার করুন
লেখক: Aleksandr Lytviak

২০২৬-২০২৭ সালের তেল বাজার
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান বিশ্ব তেলের বাজারে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন ইরান এবং ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিভিন্ন গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছিল। তারা মূলত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বাজারমূল্যের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ১৫ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত বিশাল ছাড়ে চীন ও ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এই 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসা বিশ্ববাজারে এক ধরণের সমান্তরাল অর্থনীতি তৈরি করেছিল যা এখন বন্ধ হওয়ার পথে।
২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তেলের দামের একটি স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ফলে বাজার থেকে 'রিস্ক প্রিমিয়াম' বা যুদ্ধের ঝুঁকিজনিত মাশুল কমে যাবে, যা দাম হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তির লভ্যাংশ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশিত। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং নতুন হাইড্রোকার্বন আইন গ্রহণের পর দেশটি পশ্চিমা তেল জায়ান্টদের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। শেভরন (Chevron), এনি (Eni) এবং রেপসল (Repsol)-এর মতো বড় কোম্পানিগুলো এখন সেখানে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের অভ্যন্তরে একটি বড় সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা কার্টেলের জন্য বড় হুমকি। ইরান এবং ভেনেজুয়েলা দীর্ঘকাল নিষেধাজ্ঞার কারণে কোটা ব্যবস্থার বাইরে ছিল। এখন তারা তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য পূর্ণ মাত্রায় তেল উৎপাদন করতে চাইবে, যা জোটের অন্যান্য সদস্যদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পরিশেষে, এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে 'তেল ব্ল্যাকমেইল'-এর যুগ শেষ হবে এবং বাজার আরও স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। ২০২৪-২৫ সালের মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ৫৫-৬০ ডলারের সস্তা তেল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া ছায়া ট্যাঙ্কারের চাহিদা কমে যাওয়ায় পুরনো জাহাজগুলো পরিত্যক্ত হবে, যা সমুদ্রের পরিবেশগত ঝুঁকি এবং তেল নিঃসরণের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করবে।