স্ট্রাটোস্ফিয়ারে নতুন দূরত্বের রেকর্ড গড়ল Sceye SE2 চালকবিহীন আকাশযান

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

আমেরিকান অ্যারোস্পেস স্টার্টআপ Sceye তাদের বিশেষায়িত হাই-অল্টিচিউড প্ল্যাটফর্ম স্টেশন (HAPS) মডেল SE2-এর মাধ্যমে ‘এন্ডুরেন্স প্রোগ্রাম’ (Endurance Program) সফলভাবে সম্পন্ন করে অ্যারোস্পেস শিল্পে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই অত্যাধুনিক চালকবিহীন আকাশযানটি স্ট্রাটোস্ফিয়ারের প্রতিকূল পরিবেশে ৬,৪০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। মিশনটি ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ নিউ মেক্সিকোর রোজওয়েল থেকে যাত্রা শুরু করে এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ব্রাজিলের উপকূলে পৌঁছে সফলভাবে সমাপ্ত হয়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আকাশযানটি ৫২,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ১২ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তীব্র পরিবর্তন এবং চাপের তারতম্য থাকা সত্ত্বেও একাধিক চক্র সফলভাবে পার করে এটি জ্বালানি ও বায়ুরোধক ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়, যা প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন।

Sceye-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিক্কেল ভেস্টারগার্ড ফ্রিডসেন এই সাফল্যকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে অবকাঠামোর একটি নতুন স্তর হিসেবে উন্মোচনের পথে বড় পদক্ষেপ। স্থানীয় মাউন্টেন টাইম (MT) সকাল ৮:২৬ মিনিটে যাত্রা শুরু করা এই ফ্লাইটটি ২০২৪ সালের ‘ডায়নামিক্স কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’-এর তুলনায় অভাবনীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। বর্তমান এই মিশনে SE2 নির্দিষ্ট লক্ষ্য অঞ্চলের ওপর টানা ৮৮ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত করেছে। এর মধ্যে নিউ মেক্সিকোর ওপর একটি পূর্ণ দিন-রাতের চক্র এবং ব্রাজিলের উপকূলে তিনটি ধারাবাহিক চক্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই মিশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর নির্ভুলতা; আকাশযানটি মাত্র ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা স্ট্রাটোস্ফিয়ারিক যান চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল।

কারিগরি দিক থেকে ২৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই বিশালাকার আকাশযানটি আধুনিক সৌর কোষ ব্যবহার করে যা ৪২৫ ওয়াট-ঘণ্টা/কেজি শক্তির ঘনত্ব সম্পন্ন লিথিয়াম-সালফার ব্যাটারি চার্জ করে। এই বিশেষ ধরনের ব্যাটারি রাতে বৈদ্যুতিক প্রপেলারকে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ করে আকাশযানটিকে সচল রাখে। Sceye-এর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই আকাশযানটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী অপারেশনের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই সফল প্রযুক্তিগত প্রদর্শন HAPS-কে বর্তমানের নিম্ন কক্ষপথের উপগ্রহগুলোর এক নমনীয় এবং সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যেহেতু HAPS দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট কোনো এলাকার ওপর স্থির থাকতে পারে, তাই এটি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সেবা এবং রিয়েল-টাইম পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের জন্য এক আদর্শ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে Sceye মূলত টেলিকমিউনিকেশন এবং পরিবেশগত সংকটের কার্যকর পর্যবেক্ষণে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে আসছে। কোম্পানিটির পরবর্তী বড় লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালে জাপানে সফটব্যাংক কর্পোরেশনের (SoftBank Corp) সাথে মিলে তাদের প্রথম প্রাক-বাণিজ্যিক প্রদর্শন সফল করা। উল্লেখ্য যে, সফটব্যাংক ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির সম্ভাব্যতা দেখে Sceye-তে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। জাপানের এই আসন্ন মিশনে ‘SceyeCELL’ নামক একটি উন্নত অ্যান্টেনা সিস্টেম ব্যবহার করা হবে, যা মূলত দুর্যোগপূর্ণ বা জরুরি অবস্থায় দ্রুত উচ্চ-গতির ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম। এয়ারবাসের জেফায়ার (Airbus Zephyr)-এর মতো অন্যান্য প্রতিযোগী যানের তুলনায় Sceye-এর এই আকাশযানটি নির্দিষ্ট অবস্থানে স্থির থাকার ক্ষেত্রে অনেক বেশি পারদর্শী, যা একে বিশ্ববাজারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Technopat

  • Aviation Week Network

  • Futurist Speaker

  • Thomasnet

  • PR Newswire

  • Mobile World Live

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।