NASA’s OSIRIS REx samples from asteroid Bennu revealed simple sugars and gum like organic molecules. These compounds formed through chemical reactions on dust grains exposed to radiation in space.
NASA OSIRIS REx স্পেসক্রাফ্ট দ্বারা Bennu গ্রহাণু থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো সরল শর্করা ও রেজিন-জাতীয় জৈব অণুগুলোর উপস্থিতি প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক গবেষক দলের এক যুগান্তকারী বিশ্লেষণে জানা গেছে যে, ওসাইরিস-রেক্স (OSIRIS-REx) অভিযানের মাধ্যমে বেন্নু গ্রহাণু থেকে সংগৃহীত নমুনায় রাইবোজ এবং গ্লুকোজের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। নাসা এবং জাপানের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ২রা ডিসেম্বর, নেচার জিওসায়েন্স এবং নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে। এই শর্করাগুলি পৃথিবীর জীবজগতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, এবং মহাকাশের গভীর থেকে আনা এই উপাদানে তাদের উপস্থিতি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে Dr. Glavin (NASA) ব্যাখ্যা করেছেন যে Bennu-র OSIRIS REx নমুনাগুলোতে ছয়টি জৈবভাবে গুরুত্বপূর্ণ চিনি রয়েছে, যার মধ্যে রিবোজ এবং গ্লুকোজ অন্তর্ভুক্ত।
রাইবোজ, যা আরএনএ (RNA)-এর কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করে, এবং গ্লুকোজ, যা পৃথিবীর জীবকোষের প্রধান শক্তির উৎস, এই দুটি অণু ভিনগ্রহের উপাদান থেকে প্রথমবার আবিষ্কৃত হলো। এই আবিষ্কার সৌরজগতের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রিবায়োটিক রসায়নের বিষয়ে আমাদের ধারণাকে বহুলাংশে প্রসারিত করেছে। গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে এই প্রাপ্তি সরাসরি ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণ করে না, তবে এটি দৃঢ়ভাবে দেখায় যে জীবনের রাসায়নিক পূর্বশর্তগুলি মহাজাগতিক পরিসরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। বেন্নুর নমুনাগুলিতে রাইবোজের সঙ্গে পূর্বে শনাক্ত হওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড, নিউক্লিওবেস এবং ফসফেটের উপস্থিতি আরএনএ সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত মৌলিক উপাদানগুলির একটি সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ডিএনএ (DNA)-এর জন্য অপরিহার্য শর্করা ডিঅক্সিরাইবোজ এই নমুনাগুলিতে অনুপস্থিত ছিল। এই তথ্যটি পরোক্ষভাবে 'আরএনএ ওয়ার্ল্ড' তত্ত্বকে সমর্থন করে, যা প্রস্তাব করে যে জীবনের সূচনা লগ্নে ডিএনএ-এর আগে আরএনএ ছিল জেনেটিক তথ্যের প্রধান বাহক। ওসাইরিস-রেক্স মহাকাশযান ২০২৩ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে নমুনাগুলি ফিরিয়ে আনে। এরপর থেকে পৃথিবীর দূষণ এড়াতে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে অত্যন্ত বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন পরিবেশে কঠোর পরিচ্ছন্নতার মধ্যে নমুনাগুলি সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
এই বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক উপাদান থেকে পূর্বে কখনও দেখা যায়নি এমন একটি পলিমার-সদৃশ পদার্থ আবিষ্কার করেছেন, যা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনে সমৃদ্ধ। গবেষকরা এটিকে আপাতত 'কসমিক রেজিন' বা 'মহাজাগতিক আঠা' নামে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি নরম ও নমনীয় হলেও সময়ের সাথে সাথে এটি শক্ত হয়ে গেছে এবং জটিল আণবিক শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এটি জীবনের রাসায়নিক অগ্রদূতগুলির মধ্যে একটি হতে পারে। এর গঠন পলিউরেথেনের কাছাকাছি হলেও এর কাঠামো অনেক বেশি বিশৃঙ্খল, যা প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্কে এর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অনন্য পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি হলো সেই ধূলিকণার গঠন, যা সূর্য সৃষ্টিরও আগে গঠিত হয়েছিল। বেন্নুর মূল উপাদান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে এতে 'প্রিসোলার গ্রেইনস'—অর্থাৎ সুপারনোভা বিস্ফোরণে সৃষ্ট ধূলিকণা—অন্যান্য পরিচিত মহাজাগতিক উপাদানের তুলনায় ছয় গুণ বেশি পরিমাণে বিদ্যমান। এই অতিরিক্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বেন্নু যে বস্তু থেকে তৈরি হয়েছিল, তা এমন একটি অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করেছিল যা তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণের শিকার হয়েছিল। এই প্রাচীনতম কণাগুলি আমাদের সূর্যের সৃষ্টি এবং তার পূর্ববর্তী আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশের প্রক্রিয়াগুলির সরাসরি সাক্ষ্য বহন করে।
সার্বিক বিচারে, এই তিনটি আবিষ্কার—শর্করা, জটিল পলিমার এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রিসোলার ধূলিকণা—নিশ্চিত করে যে বেন্নুর মতো গ্রহাণুগুলি হলো 'সময় ক্যাপসুল', যা সৌরজগতের আদিম রাসায়নিক উপাদান এবং পরিবেশকে সংরক্ষণ করে রেখেছে। তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের দলনেতা ইয়োশিহিরো ফুরুকাওয়া সহ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের কার্বনযুক্ত গ্রহাণুগুলিই সম্ভবত নবগঠিত পৃথিবীতে জীবনের সূচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জৈব উপাদান সরবরাহ করেছিল। ২০১৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপিত ওসাইরিস-রেক্স অভিযান জ্যোতির্জীববিদ্যা এবং গ্রহবিজ্ঞানের জন্য অভূতপূর্ব তথ্য সরবরাহ করে চলেছে।
Astronomers have found a planetary system that seems to have formed inside-out. While most systems, like our own, have rocky planets closest to their star and gaseous ones further out, the LHS 1903 system has a rocky world at its edge, challenging established models of formation.