২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আকাশে দেখা যাবে বিরল ছয় গ্রহের মহাজাগতিক মিলন

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক অনন্য বিস্ময় হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দশকে পৃথিবীর পর্যবেক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিরল দৃশ্য। সৌরজগতের ছয়টি প্রধান গ্রহ—বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন—আকাশে একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে 'প্ল্যানেটারি প্যারেড' বা গ্রহের সারিবদ্ধতা বলা হয়। এই বিশেষ বিন্যাসটি দেখার জন্য ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবারকে মূল তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও এই দৃশ্যটি সেই তারিখের কয়েক দিন আগে এবং পরেও দৃশ্যমান হতে পারে। এই সারিবদ্ধতার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি সন্ধ্যার আকাশে দেখা যাবে, যা আগের অনেক ভোরের ঘটনার তুলনায় সাধারণ মানুষের জন্য পর্যবেক্ষণ করা অনেক সহজ হবে।

এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি উপভোগ করার উপযুক্ত সময় শুরু হবে স্থানীয় সূর্যাস্তের প্রায় ৩০ মিনিট পর থেকে। পর্যবেক্ষকদের পশ্চিম দিগন্তের ঠিক উপরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। তবে এই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য পরিষ্কার আকাশ এবং দৃষ্টিসীমায় কোনো বাধা না থাকা অত্যন্ত জরুরি। সারিবদ্ধ হতে যাওয়া ছয়টি গ্রহের মধ্যে চারটি—শুক্র (যা সবচেয়ে উজ্জ্বল হবে), বৃহস্পতি, শনি এবং বুধ—খালি চোখেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তবে সূর্যের গোধূলি আভার খুব কাছে থাকায় বুধ গ্রহকে খুঁজে পাওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে এবং এটি দেখার জন্য খুব অল্প সময় পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, ইউরেনাস এবং নেপচুন দেখার জন্য অবশ্যই বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপের মতো আলোকীয় যন্ত্রের প্রয়োজন হবে।

এই দৃশ্যটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলবে প্রায় পূর্ণ চাঁদ, যার ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ অংশ আলোকিত থাকবে। এই মহাজাগতিক ঘটনার চূড়ান্ত মুহূর্তে চাঁদকে বৃহস্পতি গ্রহের খুব কাছে অবস্থান করতে দেখা যাবে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাতটি গ্রহের একটি প্যারেড দেখা গিয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এবার এই ছয় গ্রহের মিলন ঘটছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গল গ্রহ সূর্যের বিপরীত দিকে অবস্থান করায় সেটি এই গ্রহপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হবে না। গ্রহগুলোর এই কাছাকাছি আসা মূলত একটি দৃষ্টিবিভ্রম বা অপটিক্যাল ইফেক্ট, কারণ মহাকাশে গ্রহগুলো একে অপরের থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে অবস্থান করে এবং তারা সবাই ক্রান্তিবৃত্ত বা এক্লিপটিক তলে পরিভ্রমণ করে। মহাজাগতিক মেকানিক্সের অনুকূল অবস্থানের কারণে এই শোটি সুবিধাজনক সন্ধ্যার সময়ে উপভোগ করা যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রহগুলোর এই মিছিল পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বিস্তৃত হবে। এই সারিতে প্রথমে থাকবে শুক্র, এরপর পর্যায়ক্রমে বুধ, শনি, নেপচুন, ইউরেনাস এবং সবশেষে বৃহস্পতি। আরও একটি বিরল ঘটনা ঘটবে ৭ মার্চ, যখন পশ্চিম আকাশে শুক্র, শনি এবং নেপচুন একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যমান সংযোগ তৈরি করবে। শনি এবং নেপচুনের এই ধরনের ঘনিষ্ঠ অবস্থান ২১৩২ সালের আগে আর দেখা যাবে না। এরপর মঙ্গলসহ সাতটি গ্রহের পরবর্তী বড় সারিবদ্ধতা ২০৩৪ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্রেগ ব্রাউন জানিয়েছেন যে, তিন থেকে পাঁচটি গ্রহের দল প্রায়ই দেখা যায়, তবে গ্রহের সংখ্যা যত বাড়ে, এমন সংযোগ ততটাই বিরল হয়ে ওঠে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেখার সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে; যেমন নিউইয়র্ক এবং টোকিওতে ২৮ ফেব্রুয়ারি সেরা দৃশ্য দেখা গেলেও লন্ডন এবং বার্লিনে ১ মার্চ এটি সবচেয়ে ভালো বোঝা যাবে।

পর্যবেক্ষকদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, নক্ষত্রের মতো গ্রহগুলো মিটমিট করে জ্বলে না, বরং তারা স্থির ও উজ্জ্বল আলো দেয়। এই ধরনের গ্রহীয় সারিবদ্ধতা কেবল দেখার জন্যই নয়, বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কক্ষপথের মডেলগুলো যাচাই করতে এবং মহাকাশ অভিযানের জন্য 'গ্র্যাভিটেশনাল ম্যানুভার' বা মহাকর্ষীয় কৌশলের পরিকল্পনা করতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করে। বর্তমান মহাকাশ গবেষণার প্রেক্ষাপটে আর্টেমিস ২ (Artemis II) এবং ক্রু-১২ (Crew-12) মিশনের সাথে যুক্ত ফরাসি নভোচারী সোফি আডেনোটের নাম এই আলোচনার প্রাসঙ্গিকতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞানী উভয়ের জন্যই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

491 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • www.kathimerini.com.cy

  • Sciencepost

  • The Economic Times

  • Star Walk

  • Star Walk

  • EarthSky

  • BBC Sky at Night Magazine

  • Star Walk

  • Maison navi

  • Maison navi

  • Stelvision

  • Lanature

  • Agences-Spatiales

  • Star Walk

  • Maison navi

  • Maison navi

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।