আন্টার্কটিকায় দ্রুত উষ্ণায়ন: ১৩ দিন আগেই প্রজনন শুরু করেছে জেন্টু পেঙ্গুইন

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন গবেষণা পেঙ্গুইনের প্রজননে একটি রেকর্ড পরিবর্তন আবিষ্কার করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অ্যান্টার্কটিক পেঙ্গুইনরা দুই সপ্তাহ আগে প্রজনন শুরু করে।

২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত একটি গবেষণায় আন্টার্কটিক পেঙ্গুইনদের জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক নজিরবিহীন গতি লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জেন্টু পেঙ্গুইন (Pygoscelis papua) তাদের প্রজনন ঋতু গড়ে তেরো দিন আগে শুরু করেছে। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট কলোনিতে এই পরিবর্তনের সময়সীমা চব্বিশ দিন পর্যন্ত পৌঁছেছে। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন সময়ের এত দ্রুত পরিবর্তন এর আগে কখনও নথিভুক্ত করা হয়নি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত 'পেঙ্গুইন ওয়াচ' প্রকল্পের অধীনে এই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। আন্টার্কটিক উপদ্বীপ এবং পার্শ্ববর্তী সাব-আন্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জের ৩৭টি কলোনিতে স্থাপিত ৭৭টি টাইম-ল্যাপস ক্যামেরার তথ্য এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরায় থাকা থার্মোমিটারগুলো প্রকাশ করেছে যে, এই অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা মহাদেশীয় গড়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার বার্ষিক হার প্রায় ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মহাদেশীয় গড় উষ্ণায়নের হার যেখানে বছরে ০.০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এই তীব্র স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধিই পাখিদের প্রজনন সূচি পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।

প্রজনন চক্রের সাথে খাদ্যের প্রাপ্যতা, বিশেষ করে ক্রিল মাছের যোগসূত্র ছানাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার প্রধান লেখক ডক্টর ইগনাসিও হুয়ারেজ মার্টিনেজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই দ্রুত পরিবর্তন একটি অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে। যদি প্রধান খাদ্যের প্রাচুর্য দেখা দেওয়ার আগেই ছানাগুলো ডিম ফুটে বের হয়, তবে জীবনের প্রথম সপ্তাহগুলোতে তারা অনাহারের সম্মুখীন হতে পারে। তুলনামূলকভাবে, ইউরোপীয় 'গ্রেট টিট' পাখির ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের এই একই পরিবর্তন আসতে ৭৫ বছর সময় লেগেছিল, অথচ আন্টার্কটিক পেঙ্গুইনদের ক্ষেত্রে এটি মাত্র এক দশকের মধ্যে ঘটেছে।

'জার্নাল অফ অ্যানিম্যাল ইকোলজি'-তে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে যে, জেন্টু, অ্যাডেল (Pygoscelis adeliae) এবং আন্টার্কটিক বা চিনস্ট্র্যাপ (P. antarcticus) পেঙ্গুইনদের মধ্যে বাস্তুসংস্থানে স্পষ্ট 'বিজয়ী এবং বিজিত' দল তৈরি হচ্ছে। জেন্টু পেঙ্গুইনরা পরিবেশগতভাবে বেশি নমনীয় হওয়ায় এবং সামুদ্রিক বরফের ওপর কম নির্ভরশীল হওয়ায় তারা উষ্ণায়নের পরিস্থিতিতে সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে, বরফ ও ক্রিলের ওপর নির্ভরশীল অ্যাডেল এবং চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে; তাদের প্রজনন সময়ের পরিবর্তন প্রতি দশকে গড়ে দশ দিন। প্রজনন সূচির এই নৈকট্য প্রজাতির মধ্যে বাসা বাঁধার স্থান এবং খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যেখানে আক্রমণাত্মক জেন্টু পেঙ্গুইনদের অ্যাডেল পেঙ্গুইনদের বাসা দখল করার ঘটনাও দেখা গেছে।

সামগ্রিকভাবে পেঙ্গুইনরা আন্টার্কটিকার সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন পাখি বসবাস করে। প্রজাতির বৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এর অভাব পুরো অঞ্চলের খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। জলবায়ুর ক্রমাগত চাপের মুখে এই প্রজাতিগুলোর টেকসই আচরণগত অভিযোজন ক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Yahoo

  • DNyuz

  • Diario EL PAIS Uruguay

  • UOL notícias

  • Mediafax.ro

  • The Climate Clock May Be Ticking for Some Antarctic Penguins

  • Science Daily

  • Discover Magazine

  • Anadolu Agency

  • British Antarctic Survey

  • Febspot

  • British Antarctic Survey

  • Wikipedia

  • Yahoo News New Zealand

  • Yahoo News Canada

  • Oceanographic Magazine

  • British Antarctic Survey

  • Click Oil and Gas

  • VICE

  • Click Petroleo e Gas

  • Lao Dong Newspaper

  • 2026 in Antarctica - Wikipedia

  • International Thwaites Glacier Collaboration - British Antarctic Survey - Project

  • Into the unknown: scientists' first drilling mission on remote and inaccessible glacier

  • International Thwaites Glacier Collaboration - British Antarctic Survey - Project

  • International Thwaites Glacier Collaboration | National Snow and Ice Data Center

  • Scientists begin unprecedented tests on 'Doomsday Glacier' - Oceanographic Magazine

  • Into the unknown: scientists' first drilling mission on remote and inaccessible glacier

  • Scientific publications | University of Gothenburg

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।