আন্টার্কটিকার বরফের নিচে ২০৭টি আগ্নেয়গিরির তালিকা প্রকাশ করল চীন-ব্রিটিশ গবেষক দল

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

চীন নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল অ্যান্টার্কটিকায় 207টি পরিচিত সাব-গ্লেশিয়াল আগ্নেয়গিরির শনাক্তকরণের প্রথম বিস্তৃত আর্কাইভ তৈরি করেছে।

চীনের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল আন্টার্কটিকার বরফের নিচে অবস্থিত ২০৭টি সাবগ্ল্যাসিয়াল বা বরফ-নিম্ন আগ্নেয়গিরির প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাটালগ তৈরির কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। 'ANT-SGV-25' নামে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ নথিটি ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চীন এবং যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। আন্টার্কটিকা মহাদেশ নিয়ে বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এই ক্যাটালগটিকে একটি মৌলিক এবং অপরিহার্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের প্রধান চীনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে সাংহাইতে অবস্থিত পোলার রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ চায়না (PRIC), যা দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ছয়টি মেরু গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনা করছে, যার মধ্যে পাঁচটি আন্টার্কটিকায় অবস্থিত। এছাড়া তারা 'জুয়েলং' (Xuelong) এবং 'জুয়েলং ২' নামক দুটি শক্তিশালী বরফ ভাঙার জাহাজ বা আইসব্রেকার পরিচালনা করে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও মেরু গবেষণার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সহযোগিতার এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে।

আন্টার্কটিকার বরফ স্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২,১৬০ মিটার, তবে উইলকস ল্যান্ড (Wilkes Land) অঞ্চলে এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৪,৭৫৭ মিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বিশাল বরফ স্তরের নিচে থাকা আগ্নেয়গিরিগুলো বরফের নিচের স্তরের গলন এবং হাইড্রোলজিক্যাল বা জলতাত্ত্বিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সরাসরি বরফ প্রবাহের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে। এর আগে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বরফের নিচে ভূ-তাপীয় প্রভাব শনাক্ত করেছিলেন, যার ফলে দুটি লন্ডনের সমান আয়তনের এলাকায় বরফ দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

চিহ্নিত ২০৭টি আগ্নেয়গিরি পুরো মহাদেশে সমানভাবে ছড়িয়ে নেই; এগুলোর প্রধান অংশ পশ্চিম আন্টার্কটিক রিফট সিস্টেমে ঘনীভূত, যেখানে ভূ-তাপীয় প্রবাহের মাত্রা অনেক বেশি। এই আগ্নেয়গিরিগুলোর উচ্চতা ৪,১৮১ মিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এদের আয়তন ২,৮০০ ঘনকিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, অতীতে পশ্চিম আন্টার্কটিকার জলবায়ু ছিল নাতিশীতোষ্ণ, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এলাকাটি ঘন চওড়া পাতার বনে ঢাকা ছিল।

বরফের নিচের এই গতিশীলতা বোঝা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পশ্চিম আন্টার্কটিকার বরফ স্তরের নিচে ভূগর্ভস্থ পানির একটি বিশাল সঞ্চালন ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে। এই ব্যবস্থাটি বরফ এবং নিচের শিলাস্তরের মধ্যে লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে বরফের চলন নিয়ন্ত্রণ করে। সমুদ্রের পানিতে এই মিষ্টি পানির প্রবাহ সামুদ্রিক স্রোত এবং বাস্তুসংস্থানকে ব্যাহত করতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস প্রদানের জন্য আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা এবং জলতাত্ত্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

১৯৮৪ সালে আন্টার্কটিকায় গবেষণা শুরু করা চীন বর্তমানে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের প্রায় ৮৯ শতাংশ মিষ্টি পানির আধার এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বেইজিং বদ্ধপরিকর। ANT-SGV-25 ক্যাটালগ তৈরি করা চীনের মেরু গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির বৃহত্তর কৌশলেরই একটি অংশ।

10 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • दैनिक भास्कर हिंदी

  • News Nation

  • Xinhua

  • Jagran Josh

  • हिन्दुस्तान

  • ResearchGate

  • Geological Society, London, Special Publications

  • Xinhua

  • Advances in Polar Science

  • AntarcticGlaciers.org

  • Mashable

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।