
ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি চ্যালেঞ্জ: ধারা ১২২ নিয়ে বিতর্ক
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট আইনি লড়াই শুরু করেছে। এই জোটে বাইশটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং দুইজন ডেমোক্র্যাট গভর্নর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নিউ ইয়র্কের ইউএস কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এ এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মূলত বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট নিয়েছেন, তাকে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাদীরা।
এই আইনি পদক্ষেপটি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের পর নেওয়া হয়েছে। সেই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA) ভিত্তিক ব্যাপক শুল্ক নীতি বাতিল করা হয়েছিল। এরপর প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারার আশ্রয় নেয়, যা আগে কখনও শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হলেও, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট শীঘ্রই তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এই মামলার নেতৃত্বে রয়েছেন ওরেগনের ড্যান রেফিল্ড, নিউ ইয়র্কের লেটিশিয়া জেমস, ক্যালিফোর্নিয়ার রব বোন্টা এবং অ্যারিজোনার ক্রিস মেয়েস। বাদীদের দাবি, ১২২ ধারাটি মূলত "লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ও গুরুতর ঘাটতি" মেটানোর মতো বিশেষ পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি আইইইপিএ (IEEPA) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পাশ কাটানোর হাতিয়ার হতে পারে না। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড জোর দিয়ে বলেন যে, শুল্কের হার না বাড়িয়ে নাগরিকদের অর্থ ফেরত দেওয়া এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস মেয়েস এই পদক্ষেপকে "ভিন্ন আইনের আড়ালে অবৈধ ক্ষমতা দখল" বলে অভিহিত করেছেন।
বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা সম্ভব। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন ৩০১ এবং ২৩২ ধারার অধীনে তদন্ত শেষ করে দীর্ঘমেয়াদী শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে চায়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন যে, তারা আদালতে প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে জোরালোভাবে সমর্থন করবেন। তাঁর মতে, লেনদেনের ভারসাম্যের ঘাটতি দূর করতে কংগ্রেস প্রদত্ত ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন।
এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি পূর্ববর্তী শুল্কের অর্থ ফেরতের বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এর বিচারক রিচার্ড ইটন ইতিমধ্যেই ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনকে (CBP) আইইইপিএ শুল্ক বাতিল করার এবং পুরনো রেকর্ডগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে সরকারকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার বা ১৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আইনের শাসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তাঁর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। মামলার বাদীরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, ১২২ ধারায় শুল্কের "ব্যাপক এবং অভিন্ন প্রয়োগ" বাধ্যতামূলক হলেও প্রশাসন ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির মতো কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের বৈষম্যমূলক ছাড় ১২২ ধারার মূল উদ্দেশ্য ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Handelsblatt
The Guardian
Forbes
Trans.INFO
Oregon Department of Justice
The Hindu
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



