ইইউ অভিবাসন আইন কঠোর করল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট: নিরাপদ দেশের তালিকায় বাংলাদেশসহ সাত রাষ্ট্র

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত চুক্তির অধীনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই নতুন আইনগুলো ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী অভিবাসন সংকট মোকাবিলার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সংস্কারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের এমন তৃতীয় কোনো দেশে পাঠাতে পারবে যাদের সাথে তাদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে শর্ত থাকে যে, সেই দেশে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এই ব্যবস্থাটি মূলত 'রুয়ান্ডা মডেলের' আদলে তৈরি করা হয়েছে, যা বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়াই আবেদন প্রত্যাখ্যানের পথ প্রশস্ত করবে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই কঠোর নিয়মে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হলো একটি অভিন্ন 'নিরাপদ দেশ'-এর তালিকা তৈরি করা। প্রাথমিক এই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, মিশর, কলম্বিয়া, কসোভো, মরক্কো এবং তিউনিসিয়া—এই সাতটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের এখন থেকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের সত্যিই সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, যা আগে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল। এর ফলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হার বাড়বে। ইউক্রেন এবং মলদোভার মতো ইইউ সদস্যপদপ্রার্থী দেশগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যদি না সেখানে কোনো সশস্ত্র সংঘাত বা বিশেষ নিষেধাজ্ঞা থাকে।

দীর্ঘ চার বছরের আলোচনার পর এই আইনি উদ্যোগটি সফল হয়েছে, যা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ডানপন্থী এবং অতি-ডানপন্থী দলগুলোর ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে এই চুক্তি বাস্তবায়ন সদস্য দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত জরুরি। জার্মানি ইতিমধ্যে এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের জাতীয় আইন সংশোধন শুরু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের নিজস্ব নিরাপদ দেশের তালিকা কার্যকর করেছে।

এই সংস্কারের আওতায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব দেশের নাগরিকদের আবেদনের সফলতার হার ২০ শতাংশের কম, তাদের জন্য দ্রুত সীমান্ত প্রক্রিয়া (accelerated border procedures) চালু করা হবে। কমন ইউরোপীয় অ্যাসাইলাম সিস্টেম (CEAS)-এর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে যাতে জাতীয় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমানো যায়। সামগ্রিকভাবে, এই পরিবর্তনগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এক কঠোর ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • upday News

  • BMF - Bundesministerium für Finanzen / Austrian Federal Ministry of Finance

  • Wikipedia

  • China Daily

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।