জনসংখ্যাগত পরিবর্তন: শিশু যত্নের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করে চীন

সম্পাদনা করেছেন: Irina Davgaleva

২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকে চীন তার জন্মহার সহায়ক নীতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে, যা পারিবারিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বেইজিং সরকার এখন থেকে শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত পরিষেবা, বিবাহ সংস্থা এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তাকারী পরিষেবাগুলোর ওপর ধার্য ১৩ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুতর জনসংখ্যাগত পতনের মুখে দাঁড়িয়ে, পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ কমাতে এবং নতুন পরিবার গঠনে উৎসাহিত করতেই কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

একই সময়ে, চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বিশ্বব্যাপী অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী জন্মহার সহায়ক কর্মসূচির সূচনা করেছে। ২০২৬ সাল থেকে রাষ্ট্র প্রসব সংক্রান্ত সমস্ত চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করবে। এই নীতির লক্ষ্য হলো প্রসূতিদের জন্য 'পকেট থেকে শূন্য খরচ' নিশ্চিত করা। এর অর্থ হলো, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সঙ্গে যুক্ত প্রধান আর্থিক বাধা—অর্থাৎ উচ্চ চিকিৎসা খরচ—দেশের সকল স্তরের মানুষের জন্য দূর করা হবে।

এই নতুন উদ্যোগটি বিদ্যমান সুবিধাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। যেমন, তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের যত্নের জন্য প্রদত্ত ভর্তুকির ওপর আয়কর ছাড় ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। সম্মিলিতভাবে, এই পদক্ষেপগুলো এমন একটি কাঠামো তৈরি করছে যেখানে রাষ্ট্র কেবল সন্তান জন্মদানের মুহূর্তেই নয়, বরং জীবনের প্রথম ব্যয়বহুল বছরগুলোতেও সক্রিয়ভাবে ভর্তুকি প্রদান করছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে।

পরিসংখ্যানগুলো এই নীতিগত পরিবর্তনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ২০২৪ সালে চীনের জনসংখ্যা ১.৩৯ মিলিয়ন হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২২ সালে শুরু হওয়া টানা তিন বছরের নিম্নগামী প্রবণতার অংশ। নবজাতকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৫৪ মিলিয়নে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক, যেই বছর বহু বছরের 'এক সন্তান নীতি' বাতিল করা হয়েছিল। জন্মহার হ্রাসের পাশাপাশি বার্ধক্য প্রক্রিয়াও দ্রুত হচ্ছে: ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকের সংখ্যা এখন মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩১০ মিলিয়ন মানুষ।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, চীন এখন স্থিতিশীল জনসংখ্যা হ্রাসের যুগে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা ১.৩১ বিলিয়নে নেমে আসতে পারে। এই পরিস্থিতি পেনশন ব্যবস্থা, শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বহু দশক ধরে জনসংখ্যার লভ্যাংশের ওপর নির্ভরশীল অর্থনৈতিক মডেলের ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।

র‍্যান্ড কর্পোরেশনের গবেষকসহ অনেক বিশেষজ্ঞ জোর দিয়ে বলছেন যে, এই বিশাল আর্থিক প্রণোদনাগুলো জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কেবল একটি অংশ। পরিবারগুলোর প্রজনন কৌশলগুলোতে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে নীতিনির্ধারকদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বড় শহরগুলোতে আবাসন ব্যয়, শিক্ষা ব্যবস্থার উচ্চ খরচ ও তীব্র প্রতিযোগিতা, এবং তরুণ পিতামাতার ওপর দীর্ঘস্থায়ী কাজের চাপ। এই সমস্যাগুলো সমাধান না হলে, সবচেয়ে উদার ভর্তুকিগুলোও সন্তান ধারণের প্রবণতা পরিবর্তনে ব্যর্থ হতে পারে।

বেইজিংয়ের এই নতুন কৌশল হলো করের বোঝা পুনর্বন্টন এবং প্রসব ও শিশু যত্নে সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাগত গতিপথকে নতুন করে শুরু করার একটি প্রচেষ্টা। আগামী দশকে বিশ্বজনসংখ্যার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে যে, এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো চীনা পরিবারগুলোকে আরও সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে সফল হবে কিনা।

18 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Newsweek

  • Reuters

  • China's 'condom tax' sparks backlash as Beijing struggles to reverse population collapse

  • China's 'condom tax' sparks backlash as Beijing struggles to reverse population collapse

  • China records 520,000 more births in 2024 compared to 2023: NBS

  • Products - Data Briefs - Number 535 - Month July 2025 - CDC

  • China to tax contraceptives from 2026, sparking birth rate debate - The Standard (HK)

  • Vertex AI Search

  • The Business Times

  • UNN

  • The Straits Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।