জাপানের স্পেলার কোষ ও পেরোভস্কাইট ভর্তুকি: সৌর প্রযুক্তিতে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

জাপান ফটোভোলটাইক শক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা বহু পুরোনো সমতল সৌর প্যানেলের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। কিওসেমি কর্পোরেশন (Kyosemi Corporation) দ্বারা উদ্ভাবিত স্পেলার (Sphelar) নামক গোলাকার ফটোভোলটাইক মাইক্রো-কোষগুলি সরাসরি, প্রতিফলিত এবং বিচ্ছুরিত—অর্থাৎ প্রায় সকল দিক থেকে আসা সূর্যালোক গ্রহণ করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছে, সৌর শক্তি আহরণের ক্ষেত্রে শতাব্দীর পুরোনো নকশার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্পেলার কোষগুলির ব্যাস মাত্র এক থেকে দুই মিলিমিটার হলেও, এদের শক্তি রূপান্তর দক্ষতা প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি, যা প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এই উদ্ভাবনগুলি জাপানের পরবর্তী প্রজন্মের সৌর প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ।

স্পেলার কোষ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটিও পরিবেশবান্ধব এবং উদ্ভাবনী, যেখানে গলিত সিলিকন গোলক তৈরির জন্য জাপান মাইক্রোগ্র্যাভিটি সেন্টার (JAMIC)-এর মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হয়। এই মহাকর্ষহীন পরিবেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিলিকন বর্জ্য হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে, যা উৎপাদন খরচ কমাতেও সহায়ক। JAMIC তাদের পরিত্যক্ত কয়লা খনির উল্লম্ব খাদ ব্যবহার করে, যা প্রায় ৭১০ মিটার গভীর, এবং ড্রপ শ্যাফ্ট সুবিধার মাধ্যমে ১০ সেকেন্ডের জন্য মাইক্রোগ্র্যাভিটি অবস্থা তৈরি করে, যা শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতির চেয়েও দ্রুত। কিওসেমি কর্পোরেশন, যার প্রতিষ্ঠাতা মিস্টার নাকাতা একসময় মিতসুবিশি ইলেকট্রিকের সদস্য ছিলেন, এই ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন যে সূর্য যেহেতু সর্বদা গতিশীল, তাই স্থির সমতল প্যানেলের চেয়ে গোলাকার পৃষ্ঠ আলোক রশ্মি গ্রহণে অধিক কার্যকর হতে পারে।

একই সাথে, জাপানের সরকারও ভবিষ্যতের সৌর প্রযুক্তির বাজার দ্রুত দখলে আনার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (METI) ২০২৬ অর্থবছরে নমনীয় পেরোভস্কাইট সৌর কোষের (flexible perovskite solar cells) বিদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই কৌশলগত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পেরোভস্কাইট প্রযুক্তিকে দ্রুত পরীক্ষাগার থেকে আন্তর্জাতিক বাস্তব পরিবেশে নিয়ে আসা এবং এর বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করা। জাপানের জাতীয় লক্ষ্য হলো ২০৪০ সালের মধ্যে পেরোভস্কাইট স্থাপনার মাধ্যমে ২০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা, যা দেশটির নবায়নযোগ্য শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এই পেরোভস্কাইট কোষগুলি তাদের পাতলা, হালকা এবং নমনীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে স্থাপত্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা প্রচলিত সৌর প্যানেলের জন্য কঠিন ছিল, যেমন বাঁকা পৃষ্ঠ বা কম ভার বহনক্ষমতার ভবনে স্থাপন।

যদিও পেরোভস্কাইট প্রযুক্তির স্থায়িত্ব (৫-১২ বছর) নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, যা প্রচলিত প্যানেলের ২৫ বছরের তুলনায় কম, জাপান সরকার এই প্রযুক্তির বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই ভর্তুকি পরিকল্পনাটি এমন এক সময়ে এলো যখন জাপানের শাসক দল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP), ১ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্রকল্পের জন্য বিদ্যমান ফিড-ইন ট্যারিফ (FIT/FIP) সহায়তা কমানোর প্রস্তাব করছে, যা নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পরিবর্তন নির্দেশ করে। ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৮৩ সালে চার্লস ফ্রিটস (Charles Fritts) সেলেনিয়াম এবং সোনার পাতলা স্তর ব্যবহার করে প্রথম ফটোভোলটাইক কোষ তৈরি করেন, যার দক্ষতা ছিল মাত্র ১ শতাংশ। জাপানের এই দ্বিমুখী কৌশল—একটি দিকে স্পেলার দ্বারা কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা এবং অন্য দিকে পেরোভস্কাইট দ্বারা উপাদান-ভিত্তিক অগ্রগতি—উভয়ই বৈশ্বিক জ্বালানি ক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তিগত আধিপত্য বজায় রাখার গভীর অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Clarin

  • El Adelantado EN

  • JAPAN Forward

  • PVKnowhow

  • Perovskite-Info

  • YouTube

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।