বিশ্বব্যাপী পাস্তা ব্যবহার ও উৎপাদনে ইতালির একচ্ছত্র আধিপত্য

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

বিশ্বের খাদ্য মানচিত্রে পাস্তা একটি অবিচ্ছেদ্য স্থান দখল করে আছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইতালি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইতালীয় নাগরিকেরা বার্ষিক মাথাপিছু ২৩.৩ কেজি পাস্তা গ্রহণ করে, যা তাদের বিশ্বব্যাপী ভোগের তালিকায় শীর্ষে রাখে। এই বিপুল ব্যবহার কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং ইতালীয় সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত একটি অংশ। বিশ্বজুড়ে পাস্তার চাহিদা বাড়লেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামগ্রিক ভোগের চিত্রটিও তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে সম্মিলিতভাবে সর্বশেষ নথিভুক্ত সময়ে ভোগের পরিমাণ ৪ মিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ভোগের দিক থেকে ইতালি শীর্ষে থাকলেও, বিশ্বব্যাপী তালিকায় গ্রিস দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে মাথাপিছু ব্যবহার ১২.২ কেজি। তবে বিশ্ব মানচিত্রে গ্রিসের অবস্থান চতুর্থ, কারণ তিউনিসিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো গ্রিসের চেয়েও বেশি পাস্তা গ্রহণ করে। ভেনেজুয়েলায় পাস্তার সহজলভ্যতা এবং বহুমুখী ব্যবহার এটিকে তাদের খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান করে তুলেছে, যা প্রায়শই টমেটো-ভিত্তিক সস বা ভাজা সবজির সাথে পরিবেশন করা হয়। অন্যদিকে, গ্রিক রন্ধনশৈলীতে নিরামিষ পাস্তার বিভিন্ন পদ, যেমন মাংসবিহীন পাস্তিসিও এবং ফেটা চিজ ও জলপাই তেল দিয়ে তৈরি সাধারণ নুডলস বেশ জনপ্রিয়।

উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ইউরোপে ইতালির দাপট অনস্বীকার্য। ইউরোস্ট্যাট কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইইউ দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ৬.০ মিলিয়ন টন পাস্তা উৎপাদন করেছে, যার মূল্য ছিল ৯.১ বিলিয়ন ইউরো। এই উৎপাদন ২০২৩ সালের তুলনায় পরিমাণে ৫% কম হলেও মূল্যের দিক থেকে ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মোট উৎপাদনের ৪.২ মিলিয়ন টন বা প্রায় ৬৯ শতাংশই এসেছে ইতালি থেকে। ইতালির পরেই স্পেনের অবস্থান, যারা মোট উৎপাদনের ৬% বা ৩৬৭,০০০ টন উৎপাদন করেছে, এবং জার্মানি ৫% বা ২,৯০,০০০ টন উৎপাদন করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ইতালির অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের বিশাল অংশ আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করে। গত পূর্ণাঙ্গ বছরে ইতালীয় পাস্তা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২.২ মিলিয়ন টন, যা ইইউ-এর মোট রপ্তানির প্রায় ৭৭ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে, ২০২৪ সালে ইইউ দেশগুলো ২.৯ মিলিয়ন টন পাস্তা রপ্তানি করেছে, যেখানে ৫৫% রপ্তানি অন্যান্য ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে এবং বাকি ৪৫% ইইউ-এর বাইরের গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে। ইইউ-এর বাইরের প্রধান গন্তব্যগুলির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা যথাক্রমে মোট রপ্তানির ২৫% এবং ২৩% গ্রহণ করেছে।

বৈশ্বিক বাজার, যা ২০২৪ সালে ২৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, ২০৩৩ সালের মধ্যে ২৬.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইউরোপের বাজার অংশীদারিত্ব ৩৯.৯%। বর্তমানে, গ্লুটেন-মুক্ত, উদ্ভিদ-ভিত্তিক, এবং প্রোটিন-সমৃদ্ধ পাস্তার চাহিদা বাড়ছে, যা প্রস্তুতকারকদের নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইতালীয় প্রস্তুতকারক বারিল্লা তাদের প্রোটিন+ লাইনে সম্পূর্ণ উদ্ভিদ-ভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করে উপাদান পুনর্বিন্যাস করেছে। এই প্রবণতাগুলি নির্দেশ করে যে পাস্তা কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার নয়, বরং এটি আধুনিক ভোক্তাদের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস এবং সুবিধার চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

17 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Borsa italiana

  • Eurostat

  • Sky TG24

  • Eurocomunicazione.eu

  • Secolo d'Italia

  • Fondo Sviluppo

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।