হাঙ্গেরির জাতীয় ওয়াইন বিপণন বোর্ড চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রধান রপ্তানি বাজার হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে তাদের প্রচারমূলক কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হাঙ্গেরিতে উৎপাদিত পানীয়কে এশীয় গ্রাহকদের কাছে একটি প্রিমিয়াম বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষত, সিচুয়ান এবং কোরিয়ান খাবারের মতো মশলাদার এশীয় রন্ধনশৈলীর সঙ্গে হাঙ্গেরির ওয়াইনের চমৎকার মানানসই হওয়ার দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
চীনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক আসু ডে (International Aszú Day)-এর সঙ্গে কার্যক্রমের সমন্বয় করা হচ্ছে এবং সামাজিক বাণিজ্যের প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের (influencers) সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে, চীনের বিভিন্ন স্থানে WSET সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে 'ডিসকভার হাঙ্গেরি' নামক একটি নতুন শিক্ষামূলক কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো তরুণ ভোক্তাদের মধ্যে হাঙ্গেরীয় ওয়াইন সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ফুরমিন্ট (Furmint), হার্শলেভেলু (Hárslevelű) এবং কেকফ্রাঙ্কোস (Kékfrankos)-এর মতো দেশীয় আঙ্গুর এবং টোকাই (Tokaj)-এর আইকনিক মিষ্টি ওয়াইন সহ হাঙ্গেরির স্বতন্ত্র ওয়াইন শৈলীগুলি তুলে ধরা হচ্ছে।
উভয় দেশেই ওয়াইন প্রস্তুতকারকদের সরাসরি আমদানিকারক ও ভোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির মাটির ওয়াইন নিয়ে মাস্টারক্লাস সহ ওয়াইনারি পরিদর্শনের ব্যবস্থা। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে, যেখানে ওয়াইন সংস্কৃতি তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে, সেখানে হাঙ্গেরির ওয়াইনগুলিকে একটি সতেজ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোরিয়ান পেশাদাররা ওয়াইন সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন এবং তারা ফুরমিন্ট ও টোকাই-এর মতো অম্লতা ও জটিলতা সম্পন্ন সাদা ওয়াইনগুলিকে কোরিয়ান খাবারের সঙ্গে মানানসই বলে মনে করছেন। কোরিয়ার ওয়াইন বাজার বিকশিত হচ্ছে এবং ভোক্তারা দুঃসাহসিক ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছেন।
হাঙ্গেরির ওয়াইন প্রচারণার কৌশলটি কেবল পরিচিতি বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ঐতিহাসিক গভীরতা তুলে ধরার দিকেও মনোনিবেশ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, টোকাই আসু ওয়াইনকে বিশ্বের প্রথম শ্রেণীবদ্ধ ওয়াইন অঞ্চলগুলির মধ্যে গণ্য করা হয়, যা ১৭৩৭ সালে স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং এর সেলারগুলি ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, ইগার (Eger) অঞ্চলের কেকফ্রাঙ্কোস সমৃদ্ধ লাল ওয়াইনগুলিও তাদের স্বতন্ত্রতা নিয়ে আসছে। এই সম্মিলিত উদ্যোগগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, বৈচিত্র্যময় এশীয় বাজারে হাঙ্গেরির ওয়াইনগুলি কেবল একটি পানীয় নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে নিজেদের স্থান করে নিতে প্রস্তুত, যেখানে গুণমান এবং স্বতন্ত্রতার সমন্বয় গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
