সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে ডার্ক চকোলেট এবং কোকোয়াতে প্রাপ্ত থিওব্রোমিন নামক একটি যৌগ মানুষের জৈবিক বার্ধক্য ধীর হওয়ার লক্ষণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই অনুসন্ধানের মূল বিষয় হলো, রক্তে থিওব্রোমিনের মাত্রা যত বেশি, ব্যক্তির জৈবিক বয়স তার কালানুক্রমিক বয়সের চেয়ে তত কম বলে প্রতীয়মান হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক জার্নাল 'এজিং' (Aging)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে লন্ডন ভিত্তিক কিং'স কলেজ লন্ডন এবং জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গবেষকরা রক্ত নমুনা ব্যবহার করে থিওব্রোমিন এবং বার্ধক্যের আণবিক সূচকগুলির মধ্যেকার সংযোগ বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে দুটি বৃহৎ ইউরোপীয় গোষ্ঠীর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল টুইনসইউকে (TwinsUK) কোহর্টের ৫০৯ জন মহিলা এবং জার্মান কোরা (KORA) স্টাডি কোহর্টের ১,১৬০ জন পুরুষ ও মহিলা। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক জর্ডানা বেল, যিনি কিং'স কলেজ লন্ডনের এপিজেনেটিক্সের সিনিয়র অধ্যাপক, এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন রামি সাদ।
গবেষণায় উন্নত এপিজেনেটিক মার্কার, বিশেষত ডিএনএ মিথাইলেশন এবং টেলোমিয়ার দৈর্ঘ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল, যা বার্ধক্যের সুপ্রতিষ্ঠিত সূচক। গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ গবেষকরা স্ব-প্রতিবেদিত খাদ্যের পরিবর্তে সরাসরি রক্তে থিওব্রোমিনের মাত্রা পরিমাপ করেছেন। কিং'স কলেজ লন্ডনের গবেষকরা আরও পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, কফি এবং কোকোয়া থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য সম্পর্কিত যৌগ, যেমন ক্যাফেইন, এই বার্ধক্য-বিরোধী প্রভাবের জন্য দায়ী কিনা। দেখা গেছে যে থিওব্রোমিনের প্রভাব ক্যাফেইন এবং অন্যান্য সম্পর্কিত মিথাইলজ্যানথিন থেকে স্বাধীন ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই সংযোগটি কেবল কফির কারণে সৃষ্ট নয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, যখন ডেটা ধূমপায়ীদের এবং অধূমপায়ীদের মধ্যে আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল, তখন থিওব্রোমিনের সাথে ধীর জৈবিক বার্ধক্যের সংযোগটি প্রাক্তন ধূমপায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই যৌগটি নিকোটিন এক্সপোজারের সাথে সম্পর্কিত এপিজেনেটিক ক্ষতি প্রশমিত করতে পারে। এছাড়াও, থিওব্রোমিনের মাত্রা গ্রিমএজ ত্বরণ (GrimAge acceleration) হ্রাসের সাথে সবচেয়ে বেশি যুক্ত ছিল, যা রোগ এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ভবিষ্যদ্বাণী করে, এবং টেলোমিয়ার দৈর্ঘ্যের সাথেও এটি যুক্ত ছিল।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, থিওব্রোমিন একটি বায়োঅ্যাকটিভ ফাইটোকেমিক্যাল, যা কোকোয়া বীজের ওজনের প্রায় ৩.৩% গঠন করে। যদিও এই ফলাফলগুলি আশাব্যঞ্জক, তবে লেখকরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে এটি একটি সমিতিভিত্তিক গবেষণা এবং এটি কার্যকারণ প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে, গবেষকরা পরীক্ষা করছেন যে থিওব্রোমিনের প্রভাব একা কাজ করে নাকি কোকোয়ার অন্যান্য যৌগ, যেমন পলিফেনলগুলির সাথে মিথস্ক্রিয়া করে।




