উড়ান-ট্র্যাকিং সাইটগুলো শুক্রবার সকালে Area 51-এর দিকে যাওয়ার দুটি উড়ান নথিবদ্ধ করেছে। প্রথম উড়ান Janet 31 নম্বরসহ Las Vegas থেকে 8:55 পূর্ব সময়ে উড়েছে।
ইউএপি তদন্ত এবং এরিয়া ৫১-এ কংগ্রেসের প্রবেশের মুখে জ্যানেট বিমানের তৎপরতা বৃদ্ধি
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
বেসামরিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় বিমান বহর 'জ্যানেট' (JANET - Joint Air Network for Employee Transportation)-এর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৬ সালের এক শুক্রবার সকালে নেভাদা মরুভূমির রহস্যময় এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে 'এরিয়া ৫১'-এর দিকে এই বিমানগুলোর যাতায়াত অনেক বেড়ে যায়। এই লজিস্টিক তৎপরতা এমন এক সময়ে দেখা গেল যখন মার্কিন কংগ্রেসে 'আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা' (UAP) বা অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তদন্ত চলছে।
জ্যানেট বিমান বহরটি সাধারণত একটি বেসরকারি ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এর সাদা রঙের বিমানে একটি লাল রঙের স্ট্রাইপ থাকে। এই বিমানগুলো নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জ (NTTR)-এর মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে কর্মীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে এরিয়া ৫১ (হোমি এয়ারপোর্ট/KXTA) এবং টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জ (TTR) অবস্থিত। নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, জ্যানেট ৩১ ফ্লাইটটি লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় ভোর ৫:৫৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। এর ঠিক ৩২ মিনিট পর জ্যানেট ৪৩ বিমানটিও একই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। এই বিমানগুলো প্রতিদিন প্রায় ১০০০ থেকে ১৫০০ প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মী, বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সামরিক সদস্যদের এই প্রত্যন্ত স্থাপনাগুলোতে পৌঁছে দেয়, কারণ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এরিয়া ৫১-এ স্থলপথে যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই বিমান চলাচলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কংগ্রেসের ইউএপি (UAP) তদারকি কমিটির সদস্য এরিক বার্লিসন সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে সবচেয়ে গোপনীয় স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি পেয়েছেন, যা ইউএপি সংক্রান্ত রিপোর্টের সাথে সরাসরি যুক্ত। বার্লিসন এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, ফেডারেল সরকার পরিকল্পিতভাবে ইউএপি সংক্রান্ত তথ্য গোপন করছে। একদিকে জ্যানেট বিমানের বর্ধিত কার্যক্রম এবং অন্যদিকে একজন কংগ্রেস সদস্যকে এই গোপন স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান—এই দুই ঘটনার কাকতালীয় সংযোগ সরকারি গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবির মধ্যে এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে, লাস ভেগাস থেকে এরিয়া ৫১ অভিমুখে জ্যানেট বিমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে ডগলাস ডিসি-৬ (Douglas DC-6) বিমানের মাধ্যমে। পরবর্তীতে এই বহরে বোয়িং ৭৩৭-২০০ এবং বিমান বাহিনীর পরিবর্তিত টি-৪৩ (T-43) বিমান যুক্ত করা হয়। মার্কিন সরকার ২০১৩ সালের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এরিয়া ৫১-এর অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। সিআইএ-র কাছে করা একটি ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্ট (FOIA) আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সাল থেকে ইউ-২ (U-2) গোয়েন্দা বিমানের পরীক্ষার ইতিহাস প্রকাশের সময় এটি প্রথম জনসমক্ষে আসে। বর্তমানে এই এলাকাটি পরীক্ষামূলক বিমান তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হলেও এর বর্তমান কার্যক্রমগুলো 'টপ সিক্রেট/সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন' (TS/SCI) হিসেবে অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে।
কংগ্রেসের কঠোর নজরদারির সময়ে জ্যানেট ফ্লাইটের এই সংখ্যা বৃদ্ধি এই স্থাপনাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন গুরুত্বকেই তুলে ধরে। এই বিমানে কর্মরত কর্মীদের অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং তাদের 'সিক্রেট' বা 'টপ সিক্রেট' পর্যায়ের ক্লিয়ারেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। গোপনীয় কর্মসূচির এই বিশাল অবকাঠামো সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকলেও, আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বিমানগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার চ্যালেঞ্জকে ফুটিয়ে তোলে, তেমনি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারির সক্ষমতাকেও প্রদর্শন করে।
উৎসসমূহ
Daily Mail Online
The Daily Express
AR15.com
NewsBytes
Simple Flying
Wikipedia