চলমান ড্রিলিং দল কাজ করছে। ছবি: Ана-Тови/SWAIS2C
অ্যান্টার্কটিকার উষ্ণ জলবায়ুর ২৩ মিলিয়ন বছরের ইতিহাস উন্মোচন: SWAIS2C প্রকল্পের রেকর্ড ভাঙা সাফল্য
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প SWAIS2C (Sensitivity of the West Antarctic Ice Sheet to 2°C) একটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। অ্যান্টার্কটিকার ক্রারি আইস রাইজ নামক স্থানে ৫২৩ মিটার পুরু বরফের স্তর ভেদ করে বিজ্ঞানীরা ২২৮ মিটার দীর্ঘ একটি পাললিক শিলা বা সেডিমেন্ট কোর সংগ্রহ করেছেন। বরফের তলদেশ থেকে সংগৃহীত এটিই এ পর্যন্ত ইতিহাসের দীর্ঘতম নমুনা হিসেবে স্বীকৃত। প্রাথমিক পরীক্ষা অনুযায়ী, এই ভূ-তাত্ত্বিক নথিতে গত ২৩ মিলিয়ন বা ২ কোটি ৩০ লক্ষ বছরের জলবায়ুর ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে এমন কিছু সময়কাল অন্তর্ভুক্ত যখন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বর্তমানের ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি ছিল।
CIR ও KIS3 খনন সাইটগুলোর মানচিত্র।
এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্থানটি আমেরিকার ম্যাক-মার্ডো এবং নিউজিল্যান্ডের স্কট বেস স্টেশন থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক বরফের চাদরের (WAIS) ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা সম্পর্কে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এই ভৌগোলিক তথ্যভাণ্ডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জাপান, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্যসহ মোট ১০টি দেশের গবেষকরা এই SWAIS2C প্রকল্পে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে সামুদ্রিক বরফের স্তরগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নিরূপণ করা।
কাদা এবং পাথরের স্তরে গঠিত এই ২২৮ মিটার দীর্ঘ কোরটি সংগ্রহ করা সহজ ছিল না। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের পূর্ববর্তী দুটি মৌসুমে যান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিজ্ঞানীরা ব্যর্থ হয়েছিলেন, তবে তৃতীয় প্রচেষ্টায় তারা সফল হন। সংগৃহীত কোরের প্রাথমিক বিশ্লেষণে সামুদ্রিক অণুজীবের (microfossils) অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে অতীতে এই অঞ্চলটি বরফে ঢাকা ছিল না বরং উন্মুক্ত সমুদ্র ছিল। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক বরফের চাদর সম্পূর্ণ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় চার থেকে পাঁচ মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে, যা এই গবেষণার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই লক্ষ লক্ষ বছরের তথ্য জলবায়ু বিজ্ঞানীদের প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা ছাড়িয়ে গেলে WAIS-এর আচরণ কেমন হবে তা বুঝতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে, গবেষকরা শেষ আন্তঃহিমযুগীয় (Last Interglacial) সময়ের স্তরগুলো খুঁজছেন, যখন তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১ থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। সেই সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ থেকে ৯ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ২৯ জন বিশেষজ্ঞের অক্লান্ত পরিশ্রমে সফল হওয়া এই মিশনটি প্রমাণ করে যে, অতীতের উষ্ণ সময়গুলোতে বরফের চাদরের প্রান্তসীমার পরিবর্তন সম্পর্কে সরাসরি এবং বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এবং SWAIS2C-এর সহ-সভাপতি টিনা ভ্যান ডি ফ্লিয়ার্ড্ট মনে করেন, এই কোরটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরবে। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েলিংটনের গবেষক এবং প্রকল্পের আরেক সহ-সভাপতি হু হোরগান জোর দিয়ে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী স্থিতিস্থাপকতা তৈরির জন্য এই জ্ঞান অপরিহার্য। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬৮ কোটি মানুষ নিচু উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করছেন যারা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উৎসসমূহ
CPG Click Petróleo e Gás
IFLScience
Guardian Liberty Voice
ETH Zürich
Earth Sciences New Zealand | GNS Science | Te Pū Ao
Imperial College London
IFLScience
informationsdienst wissenschaft
University of Exeter News
Imperial College London
EurekAlert!
The USAP Portal: Science and Support in Antarctica
University of Exeter News
SWAIS2C - Home
EurekAlert!
ResearchGate
