তিমিদের কার্বন শোষণ ক্ষমতা: জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা প্রমাণিত

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলি প্রাকৃতিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বৃহৎ তিমিদের অপরিহার্য ভূমিকা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। এই বিশাল সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা শক্তিশালী কার্বন সিঙ্ক বা শোষক হিসেবে কাজ করে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। এই প্রক্রিয়াটি কেবল গাছপালার কার্বন ধারণ ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা জলবায়ু সংকটের সমাধানে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ তিমি তার জীবনকালে আনুমানিক ৩৩ টন কার্বন ডাই অক্সাইড আবদ্ধ করতে সক্ষম।

এই সঞ্চয়ের একটি বিশাল অংশ ঘটে যখন এই সামুদ্রিক দৈত্যরা মৃত্যুবরণ করে এবং তাদের দেহাবশেষ সমুদ্রের গভীর তলদেশে নিমজ্জিত হয়, যা 'হোয়েল ফল' নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত কার্বন বহু শতাব্দী ধরে সমুদ্রের তলদেশের পলিতে আবদ্ধ থাকে, যা বায়ুমণ্ডলে এর প্রত্যাবর্তন রোধ করে। তুলনামূলকভাবে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে মাত্র ২১ কিলোগ্রাম কার্বন সংরক্ষণ করে, যেখানে একটি তিমি তার জীবনে সঞ্চয় করে ৩৩ টন কার্বন, যা তাদের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তিমিরা 'হোয়েল পাম্প' নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া দ্বারা কার্বন শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক হিডি পিয়ারসন সহ গবেষকরা এই পুষ্টিচক্রের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিমিরা গভীর সমুদ্র থেকে পুষ্টি উপাদান, যেমন ফসফরাস ও আয়রন, সমুদ্রের উপরিভাগে নিয়ে আসে তাদের মলত্যাগের মাধ্যমে, যা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নামক অণুজীবের বৃদ্ধিতে সার হিসেবে কাজ করে। এই ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনগুলি বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে, যা পৃথিবীর মোট অক্সিজেন সরবরাহের প্রায় ৫০ শতাংশ যোগান দেয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে, তিমিরা বর্তমানে পৃথিবীর সুরক্ষায় যে অবদান রাখছে তার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় এক লক্ষ কোটি ডলার। এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, তিমিদের মলত্যাগের মাধ্যমে সৃষ্ট পুষ্টিচক্রের কারণে জলে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ ও শ্যাওলার বৃদ্ধি ঘটে, যা কার্বন হ্রাসে সহায়ক। তিমিদের এই নীরব পরিষেবাকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ কার্বন নিঃসরণের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশাল।

ঐতিহাসিকভাবে, বাণিজ্যিকভাবে তিমি শিকার শুরু হওয়ার আগে সমুদ্রে প্রায় ৫ মিলিয়ন তিমি ছিল বলে অনুমান করা হয়। বর্তমানে, দক্ষিণ আটলান্টিকে তিমির সংখ্যা ২৫ হাজারে পৌঁছেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে পৃথিবীর সব সমুদ্র মিলিয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ১ মিলিয়নে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ বছর সময় লাগতে পারে। তিমি জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি গ্রহের প্রাকৃতিক কার্বন সঞ্চয় ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমানে তিমিদের আবাসস্থল পরিবর্তন হচ্ছে, যেমনটি হাম্পব্যাক তিমির অস্বাভাবিক অভিবাসন থেকে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন। এই সামুদ্রিক প্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক কার্বন বাজেট স্থিতিশীল রাখার জন্যও অপরিহার্য।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • icohol.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

  • vertexaisearch.cloud.google.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।