প্রাণী আচরণ বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অস্ট্রিয়ার একটি গরু প্রথমবারের মতো নমনীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের পরীক্ষামূলক প্রমাণ প্রদর্শন করেছে, যা গবাদি পশুর জ্ঞানীয় ক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই ব্যতিক্রমী জ্ঞানীয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছে ১৩ বছর বয়সী সুইস ব্রাউন প্রজাতির গরু ভেরোনিকা, যা অস্ট্রিয়ার ন্যোৎস ইম গাইলটাল (Nötsch im Gailtal) এলাকার জৈব কৃষক উইটগার উইগেলে-র খামারে বসবাস করে। ইউনিভার্সিটি অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন ভিয়েনার গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বৈজ্ঞানিক জার্নাল 'কারেন্ট বায়োলজি'-তে প্রকাশিত হয়।
ভেরোনিকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করতে শিখেছে, যা প্রাথমিকভাবে একটি লাঠি ব্যবহারের মাধ্যমে শুরু হয়ে পরে একটি ডেক ব্রাশ (ঝাঁটা) ব্যবহারের মাধ্যমে বিকশিত হয়, যা তাকে আত্ম-পরিচর্যায় সহায়তা করে। গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণ ছিল ভেরোনিকার বহুমুখী সরঞ্জাম ব্যবহারের কৌশল, যেখানে সে কৌশলগতভাবে ব্রাশের কোন অংশ ব্যবহার করবে তা নির্বাচন করত। কঠিন এবং বিস্তৃত স্থান, যেমন পিঠ চুলকানোর জন্য, সে ব্রাশের শক্ত আঁশযুক্ত প্রান্তটি ব্যবহার করত। অন্যদিকে, উদর বা অণ্ডকোষের মতো সংবেদনশীল অংশগুলির জন্য, সে ব্রাশের মসৃণ হাতল অংশে স্থানান্তরিত হতো, যা ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন কৌশল প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়। মানুষের বাইরে, এই ধরনের বস্তুর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর ক্ষমতা পূর্বে কেবল শিম্পাঞ্জিদের মধ্যেই স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত হয়েছিল।
গবেষক ডঃ আন্তোনিও ওসুনা-মাস্কারো এবং ডঃ অ্যালিস আউয়ার্সপার্গ উল্লেখ করেছেন যে ভেরোনিকার মতো প্রাণীদের জন্য উদ্দীপক পরিবেশ প্রদান করা অপরিহার্য হতে পারে, যা তাদের সুপ্ত জ্ঞানীয় ক্ষমতাকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। ভেরোনিকার মালিক, জৈব কৃষক ও বেকার উইটগার উইগেলে, প্রায় দশ বছর আগে প্রথম লক্ষ্য করেন যে ভেরোনিকা মাঝে মাঝে লাঠি মুখে তুলে নিজেকে চুলকাতে ব্যবহার করছে। উইগেলে, যিনি ভেরোনিকাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করেন, তার মতে ভেরোনিকা সময়ের সাথে সাথে তার কৌশলকে আরও উন্নত করেছে এবং সে পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠস্বরও চিনতে পারে। গবেষকরা নিয়ন্ত্রণমূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে ভেরোনিকার আচরণ যান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি ছিল না, বরং একটি স্পষ্ট এবং কার্যকরী উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল।
এই আবিষ্কারটি প্রাণীজগতের জ্ঞানীয় ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান ধারণাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। পূর্বে, সরঞ্জাম ব্যবহারকে মূলত প্রাইমেট, কিছু পাখি এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী যেমন ডলফিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হত। ভেরোনিকার আচরণকে এক ধরনের অভিসারী বিবর্তন হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে বিভিন্ন নকশার প্রাণী একই ধরনের সমস্যার সমাধানে বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করে। ডঃ ক্রিশ্চিয়ান নাভরথ উল্লেখ করেছেন যে এই গবেষণাটি কেবল পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যের উপর নির্ভর না করে পরীক্ষামূলকভাবে ভেরোনিকার সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলি মূল্যায়ন করেছে। এই আচরণকে 'স্ব-কেন্দ্রিক সরঞ্জাম ব্যবহার' হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য জ্ঞানীয় কৃতিত্ব।
এই আবিষ্কারের পরিপ্রেক্ষিতে, গবেষকরা খামারে পরিবেশগত সমৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন, যা এই প্রাণীদের সঠিক যত্ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য নৈতিক আবশ্যকতা হতে পারে। উইগেলে মিল, যা ন্যোৎস ইম গাইলটালে অবস্থিত এবং ১৮৭৬ সাল থেকে পারিবারিক মালিকানাধীন, তার ঐতিহ্যবাহী কাজ এবং ভেরোনিকার বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ—উভয়ই এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। গবেষণা দল আরও অধ্যয়নের পরিকল্পনা করছে এবং জনসাধারণকে অনুরূপ ঘটনা দেখলে রিপোর্ট করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা গবাদি পশুর জ্ঞানীয় সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে আরও প্রসারিত করতে পারে।




