বৈশ্বিক দীর্ঘায়ু ব্যবধান: গড় আয়ু ও সুস্থ জীবনকালের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংখ্যাগত প্রবণতা নির্দেশ করে, যেখানে অধিকাংশ মানুষ এখন ষাট বছর অতিক্রম করে জীবনযাপন করছেন। এই বর্ধিত আয়ুষ্কাল সত্ত্বেও, জীবনের গুণগত মান সর্বজনীনভাবে উন্নত হচ্ছে না, যা গড় আয়ু এবং সুস্থ জীবনকালের (Healthy Life Expectancy) মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি করেছে। এই বৈষম্য বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে বসবাস করবে, যা বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক সহায়তার ক্ষেত্রে গভীর আর্থ-সামাজিক বৈষম্যকে তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, মোনাকোর মতো উন্নত দেশে গড় আয়ু ৮৬.৫ বছর এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চ আয়ের নিশ্চয়তা রয়েছে, সেখানে অনেক উন্নয়নশীল দেশে কেবল দীর্ঘ জীবনকাল লাভ করলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জীববিজ্ঞান অনুসারে, বার্ধক্য হলো কোষীয় ও আণবিক ক্ষতির ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া, যা শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা হ্রাস করে।

এই প্রেক্ষাপটে, জনস্বাস্থ্য নীতিগুলি জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নির্বিশেষে প্রবীণ বয়সে জীবনের গুণমান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ২০২১ থেকে ২০৩০ সালকে 'সুস্থ বার্ধক্যের দশক' হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য হলো বার্ধক্যজনিত বৈষম্য দূর করা এবং সহায়ক সম্প্রদায় গড়ে তোলা। WHO-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, যা ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গুটি বসন্ত নির্মূল এবং পোলিও নির্মূলের মতো সাফল্য অর্জন করেছে।

সুস্থ বার্ধক্য পরিবেশগত কারণগুলির উপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে রয়েছে সহজলভ্য আবাসন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সুষম খাদ্য ও শারীরিক কার্যকলাপের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গড় আয়ুর মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান; উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে ১৯৮১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে গড় আয়ু প্রায় ১৫ থেকে ১৯ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচক। তবে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপও বাড়ে, যার জন্য বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক স্তরে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত বছরগুলিকে ফলপ্রসূ জীবনে রূপান্তরিত করা। চীন বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৃহত্তম অনুদানকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম, যা জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নির্দেশ করে। এই সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টাগুলি নিশ্চিত করতে চায় যে কেবল বেশি দিন বাঁচাই নয়, বরং সেই জীবন যেন গুণগত মানসম্পন্ন হয়, যা উন্নত জীবনযাত্রার মান, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা এবং সামাজিক সংহতির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। জাপানের মতো দেশগুলি তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনধারার মাধ্যমে দীর্ঘায়ুর রহস্য উন্মোচন করেছে, যা বিশ্বব্যাপী অনুসরণীয়।

1 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Público.es

  • CENIE

  • OMS

  • Diario Público

  • OMS

  • Infobae

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।