শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে গালিগালাজের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: কীল ও আলাবামা হান্টসভিলের গবেষণা

সম্পাদনা করেছেন: Vera Mo

যুক্তরাজ্যের কীল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা ইন হান্টসভিলের গবেষকরা দৈনন্দিন ভাষার একটি অপ্রত্যাশিত দিক উন্মোচন করেছেন। এই গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে 'আমেরিকান সাইকোলজিস্ট' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে যে কঠোর শারীরিক কার্যকলাপের সময় গালিগালাজ সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল গালিগালাজের মাধ্যমে শারীরিক শক্তির বৃদ্ধিতে সহায়ক মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত করা।

গবেষণাটিতে মোট ১৯২ জন অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক কসরত, চেয়ার পুশ-আপ, সম্পাদন করতে বলা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে তারা প্রতি দুই সেকেন্ড অন্তর হয় একটি নির্বাচিত গালি শব্দ অথবা একটি নিরপেক্ষ শব্দ পুনরাবৃত্তি করবেন। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে, যারা গালিগালাজ করেছিল, তারা নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহারকারীদের তুলনায় তাদের শরীরের ওজন ধরে রাখতে গড়ে ১১% বেশি সময় সক্ষম হয়েছিল। এই বৃদ্ধি গবেষকদের এই তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে যে গালিগালাজ একটি 'বি-নিষেধমূলক মানসিক অবস্থা' বা 'ফ্লো স্টেট' তৈরি করে, যা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং মনোযোগের বিচ্যুতি কমাতে সহায়তা করে।

গবেষণার প্রধান লেখক, কীল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ রিচার্ড স্টিফেনস, এই কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মানসিক নিয়ন্ত্রণের শিথিলতাকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে অনেক পরিস্থিতিতে মানুষ সচেতন বা অচেতনভাবে তাদের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকে, এবং গালিগালাজ এই অভ্যন্তরীণ বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করে। ডঃ স্টিফেনস গালিগালাজকে একটি 'ক্যালোরি-মুক্ত, ওষুধবিহীন, স্বল্প-ব্যয়বহুল এবং সহজে উপলব্ধ সরঞ্জাম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা প্রয়োজনের সময় কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই গবেষণাটি ১৯৬০-এর দশকের পূর্ববর্তী গবেষণার সাথেও সম্পর্কযুক্ত, যেখানে দেখা গিয়েছিল যে চিৎকার বা উচ্চ শব্দের মতো হস্তক্ষেপগুলি শারীরিক শক্তি বাড়িয়েছিল, যা নিষেধাজ্ঞার হ্রাস দ্বারা সম্ভব হয়েছিল।

গবেষণা দলের সহ-লেখক, ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা ইন হান্টসভিলের নিকোলাস ওয়াশমুথ, এই ফলাফলের বৃহত্তর প্রয়োগ নিয়ে আশাবাদী। তারা বর্তমানে জনসমক্ষে কথা বলা বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মতো অন্যান্য পরিস্থিতিতে গালিগালাজের প্রভাব পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে মানুষ প্রায়শই দ্বিধাগ্রস্ত হয় বা নিজেদের নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে। এই অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে গালিগালাজ সামাজিক বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি দিয়ে ব্যক্তিকে তার অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগাতে সহায়তা করতে পারে, যা ক্রীড়া ক্ষেত্র থেকে শুরু করে কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতেও সহায়ক হতে পারে। পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে গালিগালাজ ব্যথা সহনশীলতা, মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়াতে পারে, যা এই নতুন গবেষণার 'বি-নিষেধমূলক অবস্থা' তত্ত্বকে সমর্থন করে।

14 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Stuttgarter-Zeitung.de

  • American Psychological Association

  • WVLK-AM

  • CNET

  • Wikipedia

  • Wikipédia

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।