হরমুজ প্রণালী সংকটের মধ্যে রুশ তেল রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক শিথিলতা
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, তাদের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)-এর মাধ্যমে ১২ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার সমুদ্রগামী জাহাজে থাকা রুশ তেল বিক্রির ওপর একটি সাময়িক অনুমতি ঘোষণা করেছে। জেনারেল লাইসেন্স ১৩৪ হিসেবে পরিচিত এই নতুন নির্দেশনার ফলে ২০২৬ সালের ১২ মার্চের মধ্যে ট্যাঙ্কারে লোড করা রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলো আগামী ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরিবহন ও বিক্রির বৈধ সুযোগ পাবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে একটি "অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এর প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করা এবং জ্বালানি খাতের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমন করা। তবে বেসেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সাময়িক শিথিলতার সুযোগ নিয়ে পুতিন প্রশাসন বড় ধরনের কোনো আর্থিক মুনাফা করতে পারবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আকস্মিক তীব্রতা বৃদ্ধিই মূলত এই নীতিগত পরিবর্তনের নেপথ্যে কাজ করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট ইতিহাসের বৃহত্তম তেল সরবরাহ বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যা ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের মাত্রাকেও অতিক্রম করেছে এবং বিশ্বের মোট রপ্তানির প্রায় ১০ শতাংশকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। এই নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সাথে IEA-এর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোও সম্মিলিতভাবে আরও ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে।
রাশিয়ার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সাময়িক ছাড়ের ফলে বর্তমানে ট্রানজিটে থাকা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল বিশ্ববাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। ১৩ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার দিমিত্রিভ এক বিবৃতিতে দাবি করেন যে, বিশ্ব সম্প্রদায় এখন রুশ জ্বালানি সম্পদের "পদ্ধতিগত ও অপরিহার্য ভূমিকা" স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মস্কোর তেল সরবরাহ ছাড়া বর্তমান বিশ্ববাজারকে স্থিতিশীল করা কার্যত অসম্ভব। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রুশ সরকার কোনো "উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা" পাবে না, কারণ তেলের সিংহভাগ রাজস্ব মূলত আহরণ করা হয় উৎপাদনস্থলের কর থেকে, যা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সাম্প্রতিক আর্থিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই সপ্তাহেই মস্কো প্রায় ৬ বিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের তেল ও গ্যাস রাজস্ব অর্জন করেছে। জার্মানিতে এই পরিস্থিতির প্রভাব অত্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে; সেখানে ১২ মার্চ ২০২৬-এ 'সুপার ই১০' (Super E10) পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো প্রতি লিটারে ২.০০ ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে। ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করা জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবেইল এই পরিস্থিতির জন্য বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে "মূল্য কারসাজির" অভিযোগ তুলেছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ১৩ মার্চ ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি "স্বার্থের পরিস্থিতিগত কাকতালীয় মিলন" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া বৈশ্বিক বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ স্টিভেন মিলার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার এই সাময়িক ব্যতিক্রমকে মূলত লজিস্টিক জট এড়ানোর একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে OFAC-এর লাইসেন্সে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেন বা কার্যক্রম এই অনুমতির আওতায় পড়বে না। এই পুরো ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বাজারভিত্তিক বাস্তববাদ অনেক সময় কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতির ওপর প্রাধান্য পায়।
1 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Le Figaro.fr
Le Huffington Post
Ärileht
Finanzen100.de
FinanzNachrichten.de
verkkouutiset.fi
Wikipedia
Business Insider
Malay Mail
Kurdistan24
Kyiv Post
The Guardian
BERNAMA
Boursorama
Les Echos
Boursier.com
Libération
Capital
The Guardian
IEA
U.S. Department of the Treasury
AP News
ADAC
nnz-online
ifo Institut
Auto-Medienportal.net
Bundesregierung
Wikipedia
The Hindu
Newsonair
belganewsagency.eu
Business Insider
Forbes
IEA
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



