সম্পদের তীব্র সংকটে জরুরি অর্থায়নের আবেদন জানালো জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি জরুরি তহবিল সংগ্রহের আবেদন জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান ফলকার তুর্ক, যিনি ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান যে, বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় সংস্থাটি এখন কেবল 'টিকে থাকার' লড়াই চালাচ্ছে। এই বিশেষ আবেদনের লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালে সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ২০২৬ সালের নিয়মিত বাজেটে সংস্থাটির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২২৪.৩ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মোট বাজেট ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম এবং ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রায় ২৯০০টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই তারল্য সংকটের একটি বড় কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে, যারা ২০২৬ সালের জন্য স্বেচ্ছাসেবী অনুদান স্থগিত করেছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল সংস্থাটির বৃহত্তম দাতা, যারা সে সময় ৩৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল।

২০২৫ সালে অর্থায়নের এই ঘাটতির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। ওএইচসিএইচআর (OHCHR) বাধ্য হয়ে ৩০০টি পদ বিলুপ্ত করেছে এবং মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও চাদসহ মোট ১৭টি দেশে তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করেছে। বিশেষ করে, মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১১,০০০ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৫,০০০-এ দাঁড়িয়েছে, যা অর্ধেকেরও কম। মিয়ানমারে সংস্থাটির কর্মসূচি ৬০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের স্বেচ্ছাসেবী অনুদান চেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে পেয়েছে মাত্র ২৫৭.৮ মিলিয়ন ডলার, যা একটি কাঠামোগত ঘাটতি তৈরি করেছে।

ফলকার তুর্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের বাজেট কর্তন বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের হাতকে শক্তিশালী করছে এবং তাদের যথেচ্ছভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। সুদান ও মিয়ানমারের মতো ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করাকে তিনি একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ২০২৫ সালে সংস্থাটির কর্মীরা ৮৭টি দেশে হাজার হাজার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন, ৬৭,০০০ জন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে সহায়তা দিয়েছেন এবং ১৩০০-এর বেশি বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে অনুদান দিলেও ২০২৫ সালে ফ্রান্স কোনো স্বেচ্ছাসেবী অর্থ প্রদান করেনি এবং যুক্তরাজ্য তাদের বরাদ্দ কমিয়েছে। তবে জার্মানি, সুইডেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছরের তুলনায় তাদের অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মানবাধিকার রক্ষার এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ওএইচসিএইচআর-এর এই আর্থিক সংকট কেবল একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। সংস্থাটি আশা করছে যে, নতুন এই আবেদনের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক মিশনগুলো পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে শুরু করতে পারবে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Senego.com - Actualité au Sénégal, toute actualité du jour

  • OHCHR

  • AP News

  • The Times of Israel

  • QNA

  • The Jakarta Post

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।