বেলারুশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে মিনস্কে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মিনস্ক শহরে বেলারুশ প্রজাতন্ত্র এবং শ্রীলঙ্কা গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা চলতি বছরের শুরুতেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বেলারুশের প্রতিনিধিত্ব করেন ২০২৪ সাল থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত দেশটির অসাধারণ ও পূর্ণক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো, যিনি একই সাথে শ্রীলঙ্কায় ইন্টিগ্রেশন অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার সাথে সংলাপে অংশ নেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী বিদুরা বিক্রমনায়েকে। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বোঝাপড়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা, নিয়মিত বিমান চলাচল ব্যবস্থা সুসংগঠিত করা এবং বেলারুশীয় নাগরিকদের জন্য শ্রীলঙ্কায় ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। এই উদ্যোগগুলো মূলত দুই দেশের জনগণের মধ্যে মানবিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন বেলারুশ সফরের সাংগঠনিক দিকগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রদূত কাসকো এবং মন্ত্রী হেরাতের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরাসরি বিমান সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল।
একই দিনে রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো শ্রীলঙ্কার বন্দর ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপমন্ত্রী জানিশা রুওয়ানকুমারা কোদিতুওয়াক্কুর সাথে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি নিয়মিত বিমান যোগাযোগ শুরু করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক 'বিমান পরিবহন চুক্তি' বা এয়ার ট্রান্সপোর্ট এগ্রিমেন্টে দ্রুত স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ২০২৫ সালের শেষভাগে মিনস্ক থেকে মাত্তালা পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার পর থেকেই সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ স্থাপন উভয় দেশের জন্য একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বেলারুশ সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের বিমান বহরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুটের পরিধি বাড়ানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার সাথে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বেলারুশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো, যা ২০০০ সালের ২০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। গত দুই দশকে এই সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় দেশ অভিন্ন অবস্থান পোষণ করে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং তারা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একে অপরকে সমর্থন প্রদান করে আসছে। এছাড়াও, বেলারুশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রীলঙ্কান শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিনিময়ের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য গঠিত যৌথ বেলারুশ-শ্রীলঙ্কান কমিশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তাদের দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরেও আলোচনা হয়েছিল। এই অংশীদারিত্বের পরিধি কৃষি, ভারী যন্ত্রপাতি নির্মাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ঔষধ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিনস্কে অনুষ্ঠিত এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, উভয় দেশই তাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজতর করতে বদ্ধপরিকর।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Беларускае тэлеграфнае агенцтва
Беларусь сегодня
REFORM.news (ранее REFORM.by)
Министерство иностранных дел Республики Беларусь
Посольство Республики Беларусь в Республике Индия
БелТА
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।