২০২৫ সালের ব্যাপক অর্থসংস্থান হ্রাসের পর জাতিসংঘকে ২ বিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

সোমবার, ২৯শে ডিসেম্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জাতিসংঘকে মানবিক সহায়তার জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি নির্দিষ্ট অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রদান করা হলো ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে, যা বিগত বছরগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাটছাঁট করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই কাটছাঁটের ফলে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

এই ঘোষণাটি জেনেভায় করা হয়। অর্থ বরাদ্দের এই পদক্ষেপটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পূর্বেকার তহবিল হ্রাসের কারণে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো চরম সংকটে পড়েছিল। অর্থ সংকটের ফলে সংস্থাগুলোকে কঠিন বার্তা দিতে হয়েছিল যে তাদের হয় 'খাপ খাইয়ে নিতে হবে, সংকুচিত হতে হবে, অথবা বিলুপ্ত হতে হবে'। এই সংকোচনের অংশ হিসেবে, ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID)-এর ৮৩% প্রকল্প ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে ২০২৫ সালের ১লা জুলাইয়ের মধ্যে ইউএসএইড-এর সমস্ত দায়িত্ব মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তরিত হয়। নতুন ২ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলটি একটি ছাতা তহবিল হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে, যা পরে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্টন করা হবে।

ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এই চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৩ সালে জাতিসংঘকে দেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট মানবিক অনুদানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বব্যাপী মোট সহায়তার প্রায় ১৪.৮ শতাংশের সমতুল্য। এটি ২০২২ সালের ১৭.২ বিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ অবদান এবং ২০২৪ সালের ১৪.১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক কম। সমালোচকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে বৈদেশিক সহায়তায় এত বড় ধরনের হ্রাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'সফট পাওয়ার'-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পটভূমিতে, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (OCHA) ২০২৬ সালের জন্য তাদের বৈশ্বিক মানবিক পরিকল্পনা পেশ করেছে। এই পরিকল্পনায় ৮৭ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা করার জন্য ২৩ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে, যা ২০২৩ সালের জন্য চাওয়া ৪৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ওচএএ-এর প্রধান এবং জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার, যিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে এই অনুদান ওয়াশিংটনকে মানবিক পরাশক্তি হিসেবে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে সাহায্য করবে। তা সত্ত্বেও, ফ্লেচার জোর দিয়ে বলেন যে জাতিসংঘের মানবিক প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম এখনও 'অতিরিক্ত প্রসারিত, অপর্যাপ্ত অর্থায়নপ্রাপ্ত এবং আক্রমণের শিকার', যার জন্য 'কঠিন সিদ্ধান্ত' নেওয়া অপরিহার্য।

ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ইউএসএইড-এর যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তার পেছনে স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিওর একটি বিবৃতি ছিল। রুবিও বলেছিলেন যে সংস্থাটি 'দীর্ঘদিন ধরে তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে' এবং নতুন কর্মসূচিগুলিকে 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে সরাসরি মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। অবশিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ করে কৌশলগত সহায়তা কার্যক্রম স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তর করার ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এই ২ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি মার্কিন বৈদেশিক সহায়তার নীতিতে আসা কাঠামোগত পরিবর্তনের মাঝে স্থিতিশীলতা আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

13 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Reuters

  • Reuters

  • CBS News

  • Devex

  • The Hindu

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।