আর্টেমিস II নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে পৃথিবীর দূরত্বে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন, অ্যাপোলো ১৩-এর কীর্তি অতিক্রম
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের ৬ই এপ্রিল, আর্টেমিস II মিশনের চার নভোচারী মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন, যখন তারা পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করে চাঁদের সফল প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, মহাকাশযান ওরিয়ন অ্যাপোলো ১৩ মিশনের দ্বারা ১৯৭০ সালের এপ্রিলে স্থাপিত দূরত্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়, যা মানব মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাই পর্ব হিসেবে বিবেচিত। এই অভিযানটি নাসার বৃহত্তর আর্টেমিস কর্মসূচির অংশ, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানব অবতরণ নিশ্চিত করা।
এই মিশনের চার সদস্য—কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ (প্রথম মহিলা), এবং মিশন বিশেষজ্ঞ জেরেমি হ্যানসেন (প্রথম কানাডীয়)—এই যাত্রার মাধ্যমে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর প্রথমবার মহাকাশের গভীর অঞ্চলে প্রবেশ করেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রে প্রবেশ করে, যার অর্থ হলো চাঁদ এখন মহাকাশযানটির ওপর পৃথিবীর চেয়ে বেশি মহাকর্ষীয় টান সৃষ্টি করছে। মিশনের ফ্লাইট ডিরেক্টর জুড ফ্রেইলিং উল্লেখ করেছেন যে দূরত্ব অতিক্রম করা একটি আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান হলেও, মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা।
মিশনটি বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬, কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং এই দশ দিনের মিশনটি এপ্রিল ১০, ২০২৬-এ প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা। প্রদক্ষিণের সময়, নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০৭০ মাইল (৬,৫৫০ কিলোমিটার) নিকটতম দূরত্বে এসেছিলেন। এই ফ্লাইবাইয়ের সময়, তারা চাঁদের দূরবর্তী দিকের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং চিত্র ধারণ করেন। এই ঐতিহাসিক দূরত্বের রেকর্ড ভাঙাটি অ্যাপোলো ১৩ মিশনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা একটি অক্সিজেন ট্যাঙ্কের বিস্ফোরণের কারণে অবতরণ বাতিল করে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। আর্টেমিস II মহাকাশযানটি অ্যাপোলো ১৩-এর ২৪৮,৬৫৫ মাইল (৪০০,১৭১ কিলোমিটার) রেকর্ডকে প্রায় ৪,১০০ মাইল (৬,৬০০ কিলোমিটার) ছাড়িয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ ২৫২,৭৫৭ মাইল (৪০৬,৭৭৩ কিলোমিটার) দূরত্বে পৌঁছায়।
এই যাত্রাপথে মহাকাশযানটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসার জন্য একটি 'ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি' অনুসরণ করে। প্রদক্ষেপণের পর, ক্রু ওরিয়ন ক্যাপসুলের জীবনধারণ ব্যবস্থা, যেমন ক্রু সারভাইভাল সিস্টেম (OCSS) স্পেসস্যুট, পরীক্ষা করেন। তবে, মহাকাশযানের টয়লেট সিস্টেমে একটি ক্রমাগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় ক্রুকে ব্যাকআপ মূত্র সংগ্রহকারী ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়েছে, যা গভীর মহাকাশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মধ্যেও অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। চাঁদের আড়াল দিয়ে যাওয়ার সময়, মহাকাশযানটি পৃথিবীর ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের সাথে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ৪০ মিনিটের একটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকআউটের সম্মুখীন হয়, যা গভীর মহাকাশের পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
এই মিশনের সাফল্য, যা প্রযুক্তিগত যাচাই এবং ঐতিহাসিক মাইলফলক উভয়ই, আর্টেমিস কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ, যেমন আর্টেমিস III-এর জন্য ভিত্তি স্থাপন করছে। আর্টেমিস III, যা বর্তমানে ২০২৭ সালের জন্য নির্ধারিত, চাঁদে মানব অবতরণের পরিবর্তে নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে বাণিজ্যিক ল্যান্ডারগুলির সাথে ডকিং পরীক্ষা পরিচালনা করবে। এই মিশনের মাধ্যমে ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম মহিলা, এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম কানাডীয় হিসেবে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Fox News
Bloomberg Business
Artemis II - Wikipedia
Artemis II Flight Day 5: Crew Demos Suits, Readies for Lunar Flyby - NASA
A visual guide to Artemis II and previous missions to the moon | Space News | Al Jazeera
Artemis II Lunar Flyby Schedule: What to Expect Monday and When It Happens
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



