সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে মহাকাশযাত্রার ফলে মানবদেহের জৈবিক বার্ধক্যের উপর সৃষ্ট প্রভাব উন্মোচিত হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে মহাকাশচারীদের এপিজেনেটিক বয়স দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের পর তা অনেকাংশে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এই বিশ্লেষণটি ২০২৩ সালের মে মাসে সম্পন্ন হওয়া এক্সিওম ২ (Axiom 2) মিশনের রক্ত নমুনা ব্যবহার করে পরিচালিত হয় এবং ২০২৬ সালের শুরুতে 'এজিং সেল' (Aging Cell) জার্নালে প্রকাশিত হয়।
Space could be a testing ground for age reversal @elonmusk. In 4 astronauts, epigenetic age of blood cells rose ~2 yrs by day 7 of orbit & returned to normal (or even younger) upon return 🚀 🌎 @mason_lab @davefurman onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/ac…
গবেষণায় এক্সিওম ২ মিশনের চার সদস্যের ক্রুদের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ডে ৭ (flight day 7) এর মধ্যে গড় এপিজেনেটিক বয়স ত্বরণ (Epigenetic Age Acceleration - EAA) ১.৯১ বছর বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা আণবিক স্তরে দ্রুত বার্ধক্য-সদৃশ প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই পরিবর্তন পরিমাপের জন্য গবেষকরা ৩২টি ডিএনএ মিথাইলেশন-ভিত্তিক বার্ধক্য ঘড়ি (DNA methylation-based aging clocks) প্রয়োগ করেন এবং একাধিক ঘড়ির তথ্যকে একত্রিত করে একটি EAA মেট্রিক তৈরি করেন। গবেষণার প্রধান লেখক ছিলেন বাক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিং-এর সিনিয়র গবেষক ড. ডেভিড ফারমান, যিনি এআই এবং বায়োইনফরমেটিক্স কোরের পরিচালক। এই গবেষণায় বাক ইনস্টিটিউট ছাড়াও ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন এবং কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয়।
মহাকাশের চরম পরিবেশ—যেখানে মাইক্রোগ্র্যাভিটি, আয়নাইজিং রেডিয়েশন, সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাত এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একসাথে কাজ করে—তা বার্ধক্যের জীববিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য একটি প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করে। গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে এই ত্বরণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রক টি কোষ (regulatory T cells) এবং ন্যাইভ সিডি৪ টি কোষের (naive CD4 T cells) মতো ইমিউন কোষের জনসংখ্যার পরিবর্তনের কারণে ঘটেছিল। তবে, কোষের পরিবর্তনগুলির জন্য মডেলগুলিকে সামঞ্জস্য করার পরেও, কিছু ক্রোনোলজিক্যাল বয়স ভবিষ্যদ্বাণীকারী মহাকাশে ত্বরণের সংকেত দিচ্ছিল, যা গভীর এপিজেনেটিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো এই জৈবিক প্রভাবের প্রত্যাবর্তনযোগ্যতা। মহাকাশচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাদের জৈবিক বয়স হ্রাস পায়। বয়স্ক মহাকাশচারীরা তাদের ফ্লাইট-পূর্ববর্তী এপিজেনেটিক বয়সে ফিরে আসেন, অন্যদিকে তরুণ মহাকাশচারীদের জৈবিক বয়স ফ্লাইট-পূর্ববর্তী স্তরের চেয়েও নিচে নেমে যায়। এই দ্রুত পরিবর্তন এবং পরবর্তী প্রত্যাবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে মানব শারীরবৃত্তিতে অন্তর্নিহিত পুনরুজ্জীবনকারী উপাদান থাকতে পারে যা মহাকাশ-সম্পর্কিত চাপ মোকাবেলায় সক্ষম।
ড. ফারমান এবং তার সহকর্মীরা যুক্তি দেন যে বাণিজ্যিক ও সরকারি মহাকাশ মিশনগুলি এখন জেরোপ্রোটেক্টিভ হস্তক্ষেপ (geroprotective interventions) পরীক্ষার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে। ড. ফারমান, যিনি কসমিকা বায়োসায়েন্সেস (Cosmica Biosciences) এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, তার গবেষণার ফলস্বরূপ পেটেন্ট করা প্রযুক্তি একটি স্পিন-অফ কোম্পানিতে লাইসেন্স করা হয়েছে, যা ওষুধ আবিষ্কার এবং ভোক্তা-কেন্দ্রিক বার্ধক্য প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের জন্য সরঞ্জাম তৈরি করছে।


