আর্টেমিস II ক্রু-এর প্রশান্ত মহাসাগরে সফল প্রত্যাবর্তন: চন্দ্রাভিযানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

সম্পাদনা করেছেন: Aleksandr Lytviak

নাসার আর্টেমিস II মিশনের সমাপ্তি ঘটেছে আজ, এপ্রিল ১০, ২০২৬ তারিখে, প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন মহাকাশযানের অবতরণের মাধ্যমে। এই দশ দিনের চন্দ্র প্রদক্ষিণ অভিযানটি ছিল ১৯৭২ সালের পর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে প্রথম মনুষ্যবাহী উড়ান, যা মহাকাশ অনুসন্ধানের এক নতুন যুগের সূচনা করল। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে দূরে সংঘটিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ এবং মঙ্গল অভিযানের পথ প্রশস্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চার সদস্যের ক্রু-এর মধ্যে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ)-এর নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা এপ্রিল ১, ২০২৬ তারিখে 'ইন্টিগ্রিটি' নামের ওরিয়ন মহাকাশযানে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী দিক প্রদক্ষিণ করার সময় এপ্রিল ৬, ২০২৬ তারিখে পৃথিবী থেকে ২৫২,৭৫৬ মাইল (৪০৬,৭৭১ কিমি) দূরে পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের রেকর্ডকে অতিক্রম করে মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। এই ফ্লাইটে ক্রুরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করার পাশাপাশি মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন, যা ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা।

প্রত্যাবর্তনের প্রযুক্তিগত দিকগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পুনরায় প্রবেশের প্রায় ২০ মিনিট আগে সার্ভিস মডিউলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ক্রু ক্যাপসুলটি প্রায় ২৫,০০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, যা মানববাহী মহাকাশযানের জন্য দ্রুততম পুনঃপ্রবেশের ঘটনা। এই পুনঃপ্রবেশের সময় ক্যাপসুলের হিট শিল্ড প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার সম্মুখীন হয়, যা ভবিষ্যতের মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সরবরাহ করবে। অবতরণটি আনুমানিক রাত ৮:০৭ মিনিট ইডিটি (বিকাল ৫:০৭ মিনিট পিডিটি)-তে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে হওয়ার কথা ছিল।

এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে মার্কিন নৌবাহিনী কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। সান দিয়েগো-ভিত্তিক উভচর পরিবহন ডক জাহাজ ইউএসএস জন পি. মারথা (এলপিডি ২৬) প্রধান পুনরুদ্ধার জাহাজ হিসেবে নিয়োজিত ছিল। এই জাহাজটি তার 'ওয়েল ডেক'-এর সুবিধার কারণে নির্বাচিত হয়েছিল, যা ক্রেন ব্যবহার না করে মহাকাশযানটিকে সরাসরি জাহাজের অভ্যন্তরে ভাসিয়ে তোলার সুযোগ দেয়, যা মহাকাশযানের কাঠামোগত অখণ্ডতার জন্য অধিক নিরাপদ। নৌবাহিনীর ডাইভার গ্রুপ ওয়ান (ইওডিজিআরইউ-১) এর ডুবুরি দল ওরিয়ন মহাকাশযানটিকে জল থেকে উদ্ধার করে এবং ক্রুদের প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য জাহাজে নিয়ে আসে। হেলিকপ্টার সি কমব্যাট স্কোয়াড্রন ২৩ (এইচএসসি-২৩) এর এমএইচ-৬০এস সি হক হেলিকপ্টারগুলি অবতরণের পর নভোচারীদের জাহাজে স্থানান্তরে সহায়তা করে।

এই মিশনের সাফল্য প্রমাণ করে যে মানবজাতি মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আরও গভীরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, যা আর্টেমিস III চন্দ্র অবতরণ মিশনের জন্য অপরিহার্য। ইউসি সান দিয়েগো-এর মহাকাশযান কক্ষপথ বিশেষজ্ঞ অ্যারন রোসেনগ্রেন উল্লেখ করেছেন যে সান দিয়েগোকে অবতরণ স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ হলো এখানকার পূর্বাভাসের উপযোগী প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়া এবং কাছাকাছি নৌবাহিনীর সহায়তা। এই অভিযানটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও প্রতিফলন, যেখানে কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির সদস্য হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করেছেন, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে।

29 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Mashable India

  • Digital News Report

  • Baird Maritime

  • Wikipedia

  • NASA

  • Navy.mil

  • The Guardian

  • 2026 State of Industrial AI Report Manufacturing - Cisco

  • Artemis II - Wikipedia

  • Artemis II races back to Earth after leaving moon's sphere of influence - Fox News

  • How Industrial AI Is Transforming Operations in 2026 - App Developer Magazine

  • Industrial AI and Security Trends: 2026 Cisco Report - RCR Wireless

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।