Nissan তাদের মডেল লাইনের 20% কমাবে।
নিসান বৈশ্বিক ব্যবসায় সংস্কার আনছে: মডেল সংখ্যা হ্রাস ও ২০২৬ সাল থেকে এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Pin
নিসান মোটর কর্পোরেশন তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায় একটি সুসংহত ও শক্তিশালী কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এই কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, কোম্পানিটি তাদের বর্তমান ৫৬টি মডেলের বৈশ্বিক গাড়ির সম্ভার কমিয়ে ৪৫টিতে নামিয়ে আনবে এবং মুনাফামুখীতার ওপর কঠোরভাবে মনোযোগ দেবে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার, যা ভবিষ্যতের ৯০% মডেলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সিইও ইভান এসপিনোসা দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পর এই পুনর্গঠন কার্যক্রমের মধ্যবিন্দুতে পৌঁছেছেন। এই নতুন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অত্যাধুনিক এআই ড্রাইভিং প্রযুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন। নিসান ঘোষণা করেছে যে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রো-পাইলট (ProPILOT) সিস্টেমে এন্ড-টু-এন্ড স্বয়ংক্রিয় সক্ষমতা যুক্ত করা হবে, যা ফিসক্যাল ইয়ার ২০২৭ সালের মধ্যে কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উন্নত এআই ড্রাইভিং প্রযুক্তি, যা নিসান এআই ড্রাইভ টেকনোলজি এবং নিসান এআই পার্টনার প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত, তা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একীভূত করা হবে।
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রথম প্রদর্শন ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে জাপানে উন্মোচন হতে যাওয়া ফ্ল্যাগশিপ মিনিভ্যান, নতুন প্রজন্মের এলগ্র্যান্ড (Elgrand)-এ দেখা যাবে। চতুর্থ প্রজন্মের এই এলগ্র্যান্ড মডেলে তৃতীয় প্রজন্মের ই-পাওয়ার হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন এবং ই-ফোরওআরসিই (e-4ORCE) ইলেকট্রিক অল-হুইল-ড্রাইভ সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে নিসান উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছে, যেখানে প্রধান বাজার হিসেবে জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনে তারা প্রত্যেকে এক মিলিয়ন ইউনিট গাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা জাপানের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক ৫,৫০,০০০ ইউনিটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, কোম্পানিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় উৎপাদন হার বর্তমান প্রায় ৬০% থেকে বাড়িয়ে ৮০%-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়াও, চীনকে একটি বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যেখান থেকে ল্যাটিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো অঞ্চলে এন৭ (N7) মিড-সাইজ সেডান এবং ফ্রন্টিয়ার প্রো (Frontier Pro) পিকআপ রপ্তানি করা হবে।
পণ্য সম্ভারের পুনর্গঠনে নিসান তাদের ইনফিইনটি (Infiniti) বিলাসবহুল ব্র্যান্ডকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিচ্ছে এবং মার্কিন বাজারে জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে এক্সটেরা (Xterra) এসইউভি মডেলটিকেও পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা সম্ভবত ভি৬ হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন দ্বারা চালিত হবে এবং ২০২৮ সালে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রোগ (Rogue) বা এক্স-ট্রেইল (X-Trail)-এর হাইব্রিড সংস্করণ এবং জুক (Juke)-এর একটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভবিষ্যৎ গতিশীলতার ক্ষেত্রে নিসান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে। তারা উবার টেকনোলজিস এবং ব্রিটিশ এআই স্টার্টআপ ওয়েভ (Wayve)-এর সাথে যৌথভাবে রোবোট্যাক্সি পাইলট কর্মসূচির জন্য হাত মিলিয়েছে, যা সম্ভবত ২০২৬ সালের শেষের দিকে টোকিওতে শুরু হবে। এই উদ্যোগে নিসানের গাড়িগুলো ওয়েভ-এর এআই ড্রাইভার প্রযুক্তি দ্বারা সজ্জিত থাকবে এবং উবার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাইড বুকিং করা যাবে। এই সামগ্রিক কৌশলটি নিসানকে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসসমূহ
Blic
TopAuto
Tech in Asia
AUTOBICS
Reuters
Tech in Asia


