বিশিষ্ট মহামারী বিশেষজ্ঞ টিম স্পেক্টরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলি কফিকে পরিপাকতন্ত্র এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। এই পানীয়টি কেবল একটি দৈনন্দিন অভ্যাস নয়, বরং এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক সুস্থতার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম, যা পুষ্টি বিজ্ঞানে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কফিতে থাকা পলিফেনল এবং দ্রবণীয় ফাইবার প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, যা অন্ত্রের অণুজীবের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক।
এই প্রিবায়োটিক প্রভাবের কারণে নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো *Lawsonibacter asaccharolyticus*। এই উপকারী প্রভাবটি ক্যাফেইনমুক্ত কফির ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কফির মূল উপাদানগুলির বাইরেও অন্যান্য যৌগ এই ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। এই অন্ত্রের স্বাস্থ্যগত সুবিধার পাশাপাশি, নিয়মিত কফি সেবনের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে উন্নতির সংযোগ পাওয়া গেছে।
ইউকে বায়োব্যাঙ্ক-এর তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত একটি বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে যে, দৈনিক দুই থেকে তিন কাপ কফি পান করলে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এই ফলাফলগুলি পূর্বেকার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে হৃদযন্ত্রের গতি বৃদ্ধির আশঙ্কায় হৃদরোগীদের কফি পান করতে নিষেধ করা হতো। কফিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি প্রদাহ কমাতে এবং রক্তনালীগুলির কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
গবেষণাগুলি *Lawsonibacter asaccharolyticus*-এর সঙ্গে কফির সম্পর্ককে আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে কফি গ্রহণ এই নির্দিষ্ট অণুজীবের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে। এই ব্যাকটেরিয়াটি তুলনামূলকভাবে নতুনভাবে চিহ্নিত, যা ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল এবং এর নাম 'asaccharolyticus' ইঙ্গিত করে যে এটি শর্করা হজম করে না। ইন-ভিট্রো পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে কফি-সম্পর্কিত মিডিয়াতে *L. asaccharolyticus*-এর প্রাচুর্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই মিথস্ক্রিয়াটি কফির উপাদান, যেমন কুইনিক অ্যাসিড এবং ট্রিগনেলাইন, এবং অন্ত্রের অণুজীবের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিপাকীয় সংযোগের কাঠামো স্থাপন করে।
টিম স্পেক্টরের পরামর্শ অনুসারে, স্বাস্থ্যকর ফলাফলের জন্য দৈনিক দুই থেকে চার কাপ কফি পান করা যেতে পারে। তবে, এই স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি সর্বাধিক করার জন্য কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা আল্ট্রা-প্রসেসড খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্রবণীয় ফাইবার, যা কফিতে উপস্থিত থাকে, তা জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা ওজন ব্যবস্থাপনায়ও সহায়ক। আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হিসেবে কফি গ্রহণ করা উচিত, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং উপকারী হতে পারে।




